জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ভাষণে প্রত্যেকবার ব্রাজিলই প্রথম কেন?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের মূল বিতর্ক পর্ব শুরুতেই ভাষণ দেবে ব্রাজিল
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের মূল বিতর্ক পর্ব শুরুতেই ভাষণ দেবে ব্রাজিল | ছবি: সংগৃহীত
0

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের সপ্তাহ উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে এখন সাজসাজ রব। এবারও অধিবেশনে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আগে প্রথম ভাষণ দেবে ব্রাজিল। ১৯৫৫ সাল থেকে প্রতি অধিবেশনে এ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে দেশটি। রীতিটির পেছনে ব্রাজিলের কোনো বিশেষ ক্ষমতা নেই। তবে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি প্রথা আর ব্যাতিক্রম কিছু গল্প।

১৯৫৫ সাল থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতি বছর সবার আগে ভাষণ দেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধান। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসারে এবারও ৮১তম অধিবেশনে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের পর ভাষণ দেবেন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বার্ষিক অধিবেশনে ব্রাজিলের প্রথম ভাষণ দেয়ার এ রীতি কোনো বিশেষ ক্ষমতার ভিত্তিতে নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক সৌজন্য ও দীর্ঘদিনের প্রথা, যা ১৯৫৫ সালের ১০ম সাধারণ অধিবেশন থেকে স্থায়ী নিয়ম হিসেবে চলছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় জাতিসংঘের শুরুর দিনগুলোতে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে কোনো দেশই প্রথমে ভাষণ দিতে বা সভা শুরু করতে চাইতো না। স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রথম বক্তা হতে অনাগ্রহী ছিলো যুক্তরাষ্ট্রও। সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রতিবারই স্বেচ্ছায় সবার আগে প্রথম বক্তব্য দিতে চায়। একপর্যায়ে প্রথম ভাষণ দেয়ার স্থায়ী অধিকার বা অলিখিত স্বীকৃতি পেয়ে যায় দেশটি।

১৯৪৭ সালের প্রথম বিশেষ অধিবেশন ও দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে ব্রাজিলের খ্যাতনামা কূটনীতিক- তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওসভালদো আরানহা সভাপতিত্ব করেছিলেন। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার এবং শুরুর অধিবেশনগুলো সফলভাবে পরিচালনায় তার ও ব্রাজিলের এ বিশেষ অবদানকে সম্মান জানাতেই প্রথাটি আরও জোরালো রূপ নেয়।

জাতিসংঘ প্রটোকল অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বোধনী বক্তব্যের পর সাধারণ বিতর্ক পর্বের মূল ভাষণ শুরু হয়। ঐতিহ্যগতভাবে প্রথম বক্তা ব্রাজিল। এরপর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। পরে প্রতিনিধিত্বের স্তর বা পদমর্যাদার ভিত্তিতে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র। আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং দেশগুলোর পছন্দের ওপর ভিত্তি করে এ তালিকা সাজানো হয়।

রয়েছে আগে এলে আগে সুযোগ পাবেন-ভিত্তির নীতিও। এক্ষেত্রে সবার আগে সুযোগ পান রাষ্ট্রপ্রধান, তারপর পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন উপ-রাষ্ট্রপ্রধান ও যুবরাজ, সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং প্রতিনিধিদলের অপেক্ষাকৃত কম পদমর্যাদার প্রধান।

এসএইচ