বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের শীর্ষ নেতারা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেরা যুদ্ধ শুরু না করলেও এর মারাত্মক অর্থনৈতিক মাশুল গুনছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় গত মাসে জুন মাসের সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যায়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার যে হুমকি দিয়েছেন, বৈঠকে সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানাবেন উপসাগরীয় নেতারা। ইরানে নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলে যে তাণ্ডব সৃষ্টি হবে এবং তাতে জিসিসি দেশগুলো কতটা ঝুঁকিতে পড়বে, তা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন তারা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা চান তারা।
কৌশলগত দিক থেকে জিসিসির মিত্রদের লক্ষ্যভেদে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ফুজাইরাহ বন্দরের পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পারছে। তবে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-খানি সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, ‘এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব একটি ভূমিকম্পের মতো।’ অন্যদিকে ইয়েমেনে হুথিরা নতুন সুবিধা পাওয়ায় চরম চাপে রয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ চাচ্ছে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সময়ে এই বৈঠকে বসছেন, যখন তিনি যুদ্ধের বিষয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতির দিকে থাকায় দেশটির বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর তীব্র রাজনৈতিক চাপ রয়েছে তার ওপর। সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ট্রাম্প সচেতন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিনিময়ে ইরানের বিরুদ্ধে জিসিসির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা চাইতে পারে। তবে এই বৈঠক থেকে সরাসরি কোনো বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সবচেয়ে ইতিবাচক ফল হতে পারে কাতার বা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় পরোক্ষ আলোচনায় ফেরার সম্মতি।





