কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে গেলো সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জানায় ইরান। প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে সাতদিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার কথা বলা হলেও একদিন আগেই পরিকল্পনাটি খারিজ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার হোয়াইট হাউজে রাষ্ট্রপ্রধান জানান, ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এ সিদ্ধান্ত তার। বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি নিয়ে চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে চায়। কারণ তারা ধ্বংসের পথে। কেন? কারণ তাদের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ হরমুজ প্রণালী তাদের অর্থের উৎস। তারা নিজেরাই নিজেদের চালে বোকা হয়ে গেছে। তারা হরমুজ বন্ধ করে দিয়ে সারা বিশ্বের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চেয়েছিল। জবাবে আমি সামরিক ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অবরোধ দিয়ে দিলাম। ইস্পাতের মতো শক্তিশালী দেয়াল তৈরি করেছি আমি। এখন তাদের আয়ের পথ বন্ধ। তারা প্রণালীটি বন্ধ করতে চেয়েছিল। আমি তাদের জন্যই এটা বন্ধ করে দিলাম। বাকিরা ঠিকই এটা ব্যবহার করবে।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে ইরানের বাধায় কয়েক মাস ধরে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজে। প্রণালীটি সচলের লক্ষ্যে চাপ বাড়াতে তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধ দিয়ে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবরোধ-পাল্টা অবরোধে প্রণালীটিতে জাহাজ চলাচল শূণ্যের কোঠায় নেমে এলেও জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
ট্রাম্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, তাকে উপেক্ষা করে এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষার কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শক্তিপ্রয়োগ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে হরমুজ সংকট সমাধানের সুযোগ নেই বলে জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।
ইরনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখেছি। দুর্ভাগ্যবশত তিনি অনেক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তাই মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান জানার অপেক্ষায় আছি। ইরানের জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রেখে সমঝোতা ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই, এটাই আমাদের অবস্থান।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই নৌপথটার মালিকানা আমাদের এবং ওমানের। আমরাই শুধু এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। যদিও হরমুজে জাহাজ চলাচল অবাধ ছিল, কিন্তু এটি সচল রাখার ক্ষমতাও আমাদের। এখন তারা এসে এটা বন্ধ করে দিলো যেন আমরাই এটা ব্যবহার করতে না পারি। স্বাভাবিকভাবেই আমরাও পথটা বন্ধ করে দিই যেন তারা আসতে না পারে। এই সমস্যার সমাধান হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে। শক্তিপ্রয়োগ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনোভাবেই ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকারের সম্ভাবনা নেই তেহরানের। ফলে খুব শিগগিরই ফের সামরিক সংঘাতে জড়াতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। আবারও যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে নতুন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আগ্রাসনের জবাব দিয়ে শত্রুপক্ষকে চমকে দেয়া হবে বলে সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দেয় ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি।





