দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar Delhi) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী পুরো নয়াদিল্লি অবরুদ্ধ করে শত শত নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
আরও পড়ুন:
ককরোচ জনতা পার্টির উৎপত্তি ও ইতিহাস (Origin of Cockroach Janta Party)
- উৎপত্তি: চলতি বছরের মে মাসে ভারতের এক বিচারক বেকার তরুণদের 'তেলাপোকার (Cockroach)' সাথে তুলনা করে মন্তব্য করেন।
- ভাইরাল পোস্ট: সেই মন্তব্যের জেরে বোস্টনফেরত তরুণ অভিজিৎ দিপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন— "সব তেলাপোকা যদি একজোট হয়, তাহলে কী হবে?"
- রাজনৈতিক রূপ: মুহূর্তেই এই ছয় শব্দের ডিজিটাল ট্রোল ছড়িয়ে পড়ে এবং গঠিত হয় ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)।
- প্রথম সাফল্য: নিট (NEET) মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস ও বেকারত্বের প্রতিবাদে টানা পাঁচ সপ্তাহের টানা আন্দোলনের পর দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন।
কেন নতুন করে বিক্ষোভে নামল সিজেপি (Why CJP is Protesting Again)
- সিইসির পদত্যাগ দাবি: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner - CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি সারাদেশে 'ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল প্রোটেস্ট' ডাকার পর থেকে মূল উত্তাপ তৈরি হয়।
- ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক: নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় (Electoral Roll Revision) লাখ লাখ সাধারণ ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
- বিরোধী দলগুলোর সমর্থন: বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে (BJP) সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা থেকে বিরোধী সমর্থকদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এতে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
- দিল্লিতে বর্তমান পরিস্থিতি: দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী পুরো রাজধানী লকডাউন করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেসহ অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
আরও পড়ুন:
ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে কারা আছে ?
ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party - CJP) ভারতের একটি সমসাময়িক অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক (satirical) ও যুব অধিকার রাজনৈতিক আন্দোলন। ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের আম আদমী পার্টি (AAP)-এর সাবেক সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
১. দলটির নেপথ্যে কারা আছেন? (মূল নেতৃত্ব)
- প্রতিষ্ঠাতা: অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)।
মুখপাত্র ও প্রধান সংগঠকবৃন্দ:
- সৌরভ দাস (Saurav Das)
- আশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka)
- আফরিন নওয়াজ (Aafreen Nawaz)
- দীপক বালিয়ান (Deepak Baliyan)
- রত্না সিং (Ratna Singh)
- বৈষ্ণবী গৌর (Vaishnavi Gaur)
- প্রশান্ত কাম্বোজ (Prashant Kamboj)
২. সম,র্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী
যদিও এটি ভারত নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো প্রথাগত দল নয়, তবে বেশ কিছু ব্যক্তিত্ব ও গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন:
- রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দল: আম আদমী পার্টি (AAP), শিবসেনা (UBT), সিপিআইএম (CPI-M) এবং কংগ্রেসের বিভিন্ন যুব সংগঠন।
- বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ: পরিবেশকর্মী সোমমন ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk), কৌতুক অভিনেতা ক্রুনাল কামরা (Kunal Kamra), অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ প্রমুখ।
- মূল ভিত্তি: ভারতের বেকার, জেন-জি (Gen-Z) তরুণ-তরুণী এবং শিক্ষার্থীসমাজ।
৩. কেনো এমন নাম এবং কাদের নিয়ে এই দল?
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি শুনানিতে বেকার ও সোশ্যাল মিডিয়া সক্রিয় তরুণদের নিয়ে আদালতের এক বিতর্কিত মন্তব্যের ("আরশোলা" বা "তেলাপোকা" সদৃশ শব্দ প্রয়োগ) প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই নামটি গ্রহণ করা হয়।
দলের পক্ষ থেকে মজার ছলে বলা হয়, যে তরুণদের সমাজ ও সরকার "অলস, বেকার বা তেলাপোকার মতো নগণ্য" মনে করে—এই দল তাদেরই প্রতিবাদ ও অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম।
আরও পড়ুন:
সিজেপি-র ফলোয়ারের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে
ভারতে রাজনৈতিক স্যাটায়ার ও ডিজিটাল আন্দোলনের মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party - CJP) সোশ্যাল মিডিয়ায় অসামান্য জনপ্রিয়তার রেকর্ড গড়েছে। অভিজিৎ দিপকের (Abhijeet Dipke) নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি যাত্রার শুরুতেই ভারতের মূলধারার বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে ফলোয়ার বা অনুসারীর দিক থেকে পেছনে ফেলে দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মভেদে অনুসারীর সংখ্যা (Social Media Followers)
- ইনস্টাগ্রাম (Instagram): সিজেপির মূল শক্তিশালী ঘাটি হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম। অ্যাকাউন্ট চালুর মাত্র ৫ দিনের মাথায় ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে যায়। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মতো বড় প্ল্যাটফর্মের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যাকেও দ্রুত অতিক্রম করে ইতিহাস গড়ে এই জেন-জি ভিত্তিক সংগঠনটি।
- এক্স/টুইটার (X - Twitter): প্ল্যাটফর্মটিতে জন্ম নেওয়া এই আন্দোলনের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে ২ লাখের বেশি সক্রিয় ফলোয়ার যুক্ত হয়। (পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশে অ্যাকাউন্টটিতে কিছু বাধানিষেধ আরোপিত হয়)।
- ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন ও আবেদন (Official Registrations & Petitions): অনলাইন ট্রেন্ডের বাইরে সংগঠনটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (cockroachjantaparty.org) দেশের ২ লক্ষাধিক তরুণ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন গণ-পিটিশনে ১০ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
ফলোয়ার নিয়ে বিতর্ক ও স্পষ্টীকরণ (Follower Controversy & Verification)
CJP-র হঠাৎ ফলোয়ার বৃদ্ধিতে বিচলিত হয়ে ক্ষমতাসীন দল ও সমালোচকরা দাবি তোলে যে, ফলোয়ারদের সিংহভাগই ভুয়া বা পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের ‘বট অ্যাকাউন্ট’ (Bot Accounts)।
তবে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্ল্যাটফর্মের অ্যানালিটিক্স প্রমাণ প্রকাশ করে স্পষ্ট করেন যে, তাদের অনুসারীদের ৯৪% থেকে ৯৫% তরুণই ভারতীয় নাগরিক (Indian Youth)। মূলত প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জেন-জি (Gen-Z) সমাজই এই বিশাল অনুসারী সংখ্যার মূল কারিগর।
আরও পড়ুন:




