সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোতে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এক বিবৃতিতে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগলেও, কেউ হতাহত হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ব্যালাস্টির ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরামকোর একটি বড় পরিচালনকেন্দ্রের অফিস টাওয়ারে তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একইদিনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠে রাজধানী রিয়াদ। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী শিশুসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৫টি ভবন। রিয়াদ ছাড়াও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে পশ্চিম ইয়েমেনজুড়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত তেল স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। রাজধানী সানাসহ পশ্চিমাঞ্চলীয় দামার ও সাদা প্রদেশে গেল একদিনে সৌদি জোট ১০৪টি বিমান হামলা চালায় বলে জানিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। সৌদি আরবকে কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারা। সৌদি আরব যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত করে এবং অবরোধ তুলে না নিলে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বারবার হামলার জন্য হুথিদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে বৈঠকে হুশিয়ারি জানান সৌদি যুবরাজ।
এদিকে, সৌদির পাশে দাঁড়াতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে অনুরোধ করবেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি যুবরাজের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, হুথিরা খুব খারাপ কাজ করছে।
হুথি ও সৌদি জোটের সংঘাতের প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটির দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। চলমান সংঘাতে চরম সংকটের মুখে পড়েছে তাইজ শহর। বাস্তুচ্যুত কয়েক লাখ মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট, জ্বালানির দাম বেড়েছে তিনগুণ। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।





