নেপালের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পদক্ষেপের টার্নিং পয়েন্ট: জাতিসংঘ

আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটছেন এক ব্যক্তি
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটছেন এক ব্যক্তি | ছবি: সংগৃহীত
0

নেপালের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যা বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একটি বাঁক বা টার্নিং পয়েন্ট হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। হিমালয়সংলগ্ন এই দেশটির পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে আজ শনিবার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা কার্যালয়ের (ইউএনওপিএস) নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দা সিলভা।

গত ২৬ আগস্ট চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি পাহাড় ধসের পর নেপালে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। দেশটির ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক এই দুর্যোগে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে।

বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পর মোরেইরা দা সিলভা জানান, সেখানে তিনি নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছেন। প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপাল বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে প্রায় কোনো ভূমিকাই রাখে না। অথচ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে দেশটির পুনর্গঠন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৭৮ কোটি মার্কিন ডলার।

কাঠমান্ডুতে এএফপিকে মোরেইরা দা সিলভা বলেন, ‘এটি কেবল নেপালের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি মোড় ঘোরানোর মতো সময়। কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা না রাখা একটি দেশকে একা এই বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে বাধ্য করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। এজন্যই বৈশ্বিক সংহতি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতের জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জলবায়ু অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে হবে। এটি জলবায়ু সুবিচার ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। শীর্ষ দূষণকারী দেশগুলো তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে স্বল্প কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকেই ক্রমাগত জলবায়ু সংকটের চরম মূল্য দিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার মধ্যেই নেপালকে পুনর্গঠন কাজ চালাতে হচ্ছে। জাতিসংঘের হরমুজ প্রণালি বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রধান হিসেবে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি, কৃষ্ণসাগর এবং লোহিত সাগরের নৌবাণিজ্য পথ একসঙ্গে বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গত মাসে নেপালের বন্যাদুর্গতদের জরুরি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিলের আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো। এর আগে গত মাসে জাতিসংঘে বক্তব্য দেয়ার সময় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছিলেন, এই বিধ্বংসী বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বিপদের বিষয়ে বিশ্বের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।

এএম