যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের (এফইসি) সর্বশেষ নথিপত্র অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহেই নিজের গঠিত আমেরিকা প্যাকে অতিরিক্ত ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিয়েছেন মাস্ক। গত জুলাইয়ে এই তহবিলটি নতুন করে সক্রিয় করার পর থেকে তিনি মোট ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার জুগিয়েছেন, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ডলারের সমান।
মাস্কের এই বিশাল আর্থিক সহায়তায় ভর করে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টি, তাদের বিভিন্ন সুপার প্যাক এবং ট্রাম্পের মাগা ইনকরপোরেশন তুলেছে রেকর্ড ২১০ কোটি ডলার। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের সংশ্লিষ্ট তহবিলগুলো সংগ্রহ করতে পেরেছে ১৪০ কোটি ডলার। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যখন রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে গেছে, ঠিক তখন মাস্কের জোগানো এই বিশাল তহবিল রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনি লড়াইয়ে বড় সঞ্জীবনী হিসেবে কাজ করছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ইলন মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। স্পেসএক্স, টেসলা, দ্য বোরিং কোম্পানি এবং নিউরালিংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে। এছাড়া টেসলা ও স্পেসএক্সের সম্ভাব্য একীভূতকরণের বিষয়টিও সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনে অপচয় রোধে সরকারের পুনর্গঠন বিষয়ক দপ্তর ডজের প্রধান হিসেবে মাস্কের ভূমিকাও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে বাধার মুখে পড়তে পারে।
মাস্কের আমেরিকা প্যাকের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে, যেখানে তার বাণিজ্যিক সদর দপ্তরগুলো অবস্থিত। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ও টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের পক্ষে এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ত্যালারিকোর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি সরাসরি ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে সিনেট লিডারশিপ ফান্ডের মাধ্যমে টেক্সাসের তহবিলে মাস্কের দেয়া ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার যুক্ত হয়ে প্যাক্সটনের নির্বাচনি প্রচারে মোট ১৮ কোটি ডলারের বেশি ঢালা হয়েছে।
এই বিশাল অর্থব্যয়কে মাস্কের বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারের প্রধান হাতিয়ার বানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ত্যালারিকো। নিজের এক নির্বাচনি বিজ্ঞাপনে তিনি অভিযোগ করেন, একজন শতকোটিপতি টেক্সাসে নিজের পছন্দের সিনেটর কিনে নেয়ার চেষ্টা করছেন। মাস্ক যদি বিপুল অর্থ ঢেলে কেন প্যাক্সটনকে বিজয়ী করেন, তবে প্যাক্সটন আজীবন মাস্কের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। তবে টেক্সাস বিক্রি হওয়ার নয় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর পাল্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্যালারিকোকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন মাস্ক।
আমেরিকা প্যাক কেবল টেক্সাসেই নয়, ওহাইও, মিশিগান, আইওয়া ও মেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যসহ প্রতিনিধি পরিষদের ৩০টির বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয়ে সরাসরি অর্থ ঢালছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে লড়া রিপাবলিকান মাইক রজার্সের পক্ষে ৮৬ লাখ ডলার এবং ওহাইওতে রিপাবলিকান জন হাস্টেডের পক্ষে ৯৪ লাখ ডলার খরচ করেছে এই তহবিল। এছাড়া রিপাবলিকানদের সুবিধা দিতে আলাস্কার র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি বাতিলের প্রচারণাতেও ১৫ লাখ ডলার দিয়েছেন মাস্ক।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক ইলন মাস্ক। চলতি নির্বাচনে রাজনৈতিক অনুদানের দিক থেকে তিনি ডেমোক্র্যাটদের প্রধান দাতা শতকোটিপতি জর্জ সোরোস কিংবা রিপাবলিকানদের অন্য বড় পৃষ্ঠপোষকদের অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের সহায়তায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৮ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন ব্লুমবার্গের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ব্লুমবার্গ।





