ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু, জরিপে পিছিয়ে জোট

বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু
বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু | ছবি: র‍য়টার্স
0

রাত পোহালেই ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন। রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এবারের নির্বাচনে পরাজিত হলে রাজনীতিতে ইতি টানার পাশপাশি তাকে যেতে হতে পারে কারাগারেও। এটিকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশ্লেষকরা। যার প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে। জরিপ বলছে, এখন পর্যন্ত পরাজয়ের মুখে নেতানিয়াহুর জোট। আর ফলাফলে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটররা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা নাড়িয়ে দিয়েছিল ইসরাইলের ভিত। প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বিশ্বখ্যাত ইসরাইলি গোয়েন্দা কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে। জবাবে গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় নারী ও শিশুসহ ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে।

ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয় গাজা উপত্যকা। যা অশান্তিতে ফেলেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে। ইসরাইলের যুদ্ধ বিস্তৃত হয়েছে লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানে।

এমন অবস্থায় আগামী ২৭ অক্টোবর ২৬তম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসরাইলে। এই দফায় সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে নেতানিয়াহু দল।

গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। সব জিম্মিকে জীবিত ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার পদত্যাগের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয় ইসরাইলে। এছাড়া, জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার বিচারাধীন।

সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কয়েক দফায় মোট ১৯ বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে হামাসের ঘটনার পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা কমেছে ইসরাইলিদের।

নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের ভাবনায় ইসরাইলের নিরাপত্তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন, হামাস ও হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের ব্যর্থতাসহ উচ্চমূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে হারলে নেতানিয়াহুর জন্য তা হবে বিপর্যয়কর। এমনকি তার কারাদণ্ডও হতে পারে।

এছাড়া, নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব রাখবে লিকুদ পার্টির ঘাঁটি ডিমোনা শহরের ভোটাররা। কারণ এখন তারা নেতানিয়াহুর বিরোধী জোট আইজেনকোটের হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই অঞ্চলটি পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে।

নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটের মধ্যে। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টির সঙ্গে রয়েছে অতি-ডানপন্থী ও অতি-গোঁড়া কয়েকটি দল। তার বিপরীতে রয়েছে মূলত চারটি প্রধান ইহুদি-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ও জোট।

বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে দুই জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমের জরিপ বলছে, প্রধান বিরোধী শিবির ৫১ শতাংশ এবং নেতানিয়াহুর জোট ৪৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে পরাজিত হতে পারেন নেতানিয়াহু। তবে সরকার গঠনে প্রধান দুই জোটেরই ভর করতে হবে ছোট দলগুলোর ওপর।

নেসেট নামে পরিচিত ইসরাইলি পার্লামেন্টের মোট আসনসংখ্যা ১২০টি। একক সরকার গঠনে প্রয়োজন কমপক্ষে ৬১টি আসন। জোট গঠনে দলগুলো ২৮ দিন সময় পায়। এই সময়ে জোট গড়তে ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হবে।

সাধারণত নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে নয়, বরং নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেয় ইসরাইলিরা। প্রতিটি দলের পাওয়া ভোটের আনুপাতে বণ্টন হয় নেসেটে আসন। এবার মোট ভোটার প্রায় ৭৩ লাখ।

বিদায়ী পার্লামেন্টে নেতিনিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ছিল ৬০। এর মধ্যে লিকুদ পার্টির আসন ছিলো ৩২টি। আর বিরোধীদের ছিল ৫৯টি আসন। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী ৪ নভেম্বর।

জেআর