কাটলো না অনিশ্চয়তা, ইসরাইলে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের শঙ্কা

নির্বাচনের পর নিজ নিজ দলের সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইয়াশার প্রধান গাদি আইজেনকোট
নির্বাচনের পর নিজ নিজ দলের সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইয়াশার প্রধান গাদি আইজেনকোট | ছবি: টাইমস অব ইসরাইল
0

ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট কিংবা বিরোধী দলগুলোর কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনে ন্যূনতম ৬১টি আসন প্রয়োজন হলেও কোনো পক্ষই সেই লক্ষ্য পূরণ করতে না পারায় দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৯৩ শতাংশ সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ব্যালট বা মোট ভোটের ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ গণনা শেষে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এবারের নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে ইসরাইলের আরব দলগুলো। তারা যৌথভাবে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভের পথে রয়েছে, যার মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রাম পার্টি পেয়েছে ৭টি আসন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাধারণ ব্যালটের বাকি থাকা অংশ বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাছাড়াও সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও কূটনীতিকদের প্রায় ৬ লাখ বিশেষ ব্যালট এখনও গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোট যুক্ত হলে চূড়ান্ত ফলাফলে কিছুটা রদবদল ঘটতে পারে। তবে সামগ্রিক ফলাফলে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নির্বাচনে সার্বিক ভোট পড়ার হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

চূড়ান্ত ফল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা ও সম্ভাব্য অচলাবস্থার মুখে দেশবাসীকে আবারও নির্বাচনের দিকে ঠেলে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সংকট কাটাতে দলগুলোর নেতাদের উন্মুক্ত মনোভাব নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল হাতে পাওয়ার পরই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নেসেটের দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতিকে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার প্রতীক বলে আখ্যা দেন তিনি।

এদিকে বিরোধী শিবিরে সরকার গঠনের সমীকরণ মেলাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা গড়ে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার পথ তৈরি করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। যারা উগ্র ডানপন্থি সরকারের আগ্রাসী নীতির বাস্তব বিকল্প গড়তে চায়, তাদের আরব দলগুলোর সঙ্গেই আলোচনায় বসতে হবে। ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলানও বিরোধী জোটের প্রতি আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিরোধীদের হাতে এখন স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো প্রকার দ্বিধা রাখা চলবে না।

অন্যদিকে বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জেরুজালেমে নিজ দলের সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে বিকল্প সরকার গড়ার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেসব দল ইসরাইলি সেনাদের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে, তাদের সমর্থনে সরকার পরিচালনা করা দেশের নিরাপত্তার জন্য আত্মঘাতী হবে। জায়নবাদী ও জাতীয়তাবাদী জনগণের স্পষ্ট সমর্থন তাদের পক্ষেই রয়েছে দাবি করে তিনি একটি শক্তিশালী সরকার গঠনের প্রত্যয় জানান। তাছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার সুযোগ এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নির্বাচনে স্পষ্ট কোনো ফলাফল না আসায় সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ইসরাইলের অর্থনীতিতে। তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক টিএ-১২৫ প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সূচক টিএ-৩৫ কমেছে দেড় শতাংশ। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা শেকেলের মান প্রায় ১ শতাংশ কমে গেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা জানান, একটি স্থিতিশীল সরকারের নিশ্চয়তা না মেলা পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

—টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে অনুসারে

এএম