মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা, নিহত ৫

নাগা-কুকি সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর
নাগা-কুকি সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতের মণিপুর রাজ্যে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় নিহত হয়েছে পাঁচজন। দু’টি আলাদা ঘটনায় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা সম্প্রদায়কে দায়ী করেছে কুকি গোষ্ঠী। এদিকে ভারত সরকারের সঙ্গে কুকি গোষ্ঠীর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকার গণবিক্ষোভে যোগ দেয় লাখ লাখ মানুষ। মেইতের পর নাগা সম্প্রদায়ের সঙ্গে কুকিদের সংঘর্ষ মণিপুরের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে হিন্দু প্রধান মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের জাতিগত দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। এবার কুকিদের সঙ্গে নাগা সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ মণিপুরের সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মণিপুরকে মাতৃভূমি দাবি করে নিজেদের এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রক্ষক মনে করে নাগা সম্প্রদায়। আর কুকিদের দেখা হয় বসতি স্থাপনকারী হিসেবে।

এবার রাজ্যটিতে দু’টি আলাদা ঘটনায় পাঁচজন নিহতের ঘটনায় সংঘাতকবলিত এই অঞ্চলে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, রাজ্যের ননি জেলায় অজ্ঞাত সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের তিন ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও কুকি সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ।

আরও পড়ুন:

এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে দায়ী করেছে কুকি সম্প্রদায়। একে নিজ ভূমিতে সরাসরি ও বিনা উস্কানিতে আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করছেন তারা। এরপরই বিক্ষোভে নামলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় কুকি আন্দোলনকারীরা। রোববার রাতে কাংপোকপি জেলায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে তারা।

এদিকে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ ও বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গণবিক্ষোভে নামে লাখ লাখ মানুষ। এই বিক্ষোভের মধ্যেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটলো।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষে কয়েকটি জেলায় নিহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ। পুড়িয়ে দেয়া হয় কয়েক ডজন ঘরবাড়ি। ২০২৩ সাল থেকে মণিপুরে কুকিদের সঙ্গে হিন্দু প্রধান মেইতেই সম্প্রদায়ের সংঘাতে প্রাণ হারায় ৩শ'র বেশি মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দা।

এসএস