উন্নয়নশীল বিশ্বে কর্মসংস্থানে বড় ঘাটতির সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাংকের

বিশ্ব ব্যাংক
বিশ্ব ব্যাংক | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিলো বিশ্বব্যাংক। আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১২০ কোটি হলেও, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে মাত্র ৪০ কোটি। কর্মক্ষেত্রের বিশাল শূন্যতা পূরণে দুর্নীতি দমন, শ্রম আইন, ব্যবসার পরিবেশ তৈরির দিকে নজর দিচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি সংকটে দেশে দেশে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কর্মী ছাঁটাইও হচ্ছে বহু প্রতিষ্ঠানে।

ব্যর্থ শান্তি আলোচনা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের একটি ধারাবাহিক প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও হরমুজ প্রণালি চালু না হলে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদে বিরূপ প্রভাব পড়বে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, ‘মূল কথা হলো যদি শান্তি বজায় থাকে। তবে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে। জ্বালানি পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগবে। গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনৈতিকভাবে যতটা ভালো অবস্থানে ছিলো, তবে বর্তমানে তা আর নেই।’

আরও পড়ুন:

চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক আর্থিক আলোচনায় গুরুত্ব পাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। তবে এর মধ্যে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিল বিশ্বব্যাংক। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা পৌঁছাবে ১২০ কোটিতে। তবে এই সময়ে আশঙ্কার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে মাত্র ৪০ কোটি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দুর্নীতি দমন, শ্রম আইন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও উন্নত বাণিজ্যের বিষয়গুলোর ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আগামীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারি খাতের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা যায় না। বাস্তবতা হলো, ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেসরকারি খাতে সৃষ্টি হয়। এর সিংহভাগই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্পোদ্যোগে তৈরি হয়। এ পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি ইতিবাচক চক্রে পরিণত করতে হবে।’

আরও পড়ুন:

বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জিডিপি শূন্য দশমিক ২ বা ৩ শতাংশে কমতে পারে। সেইসঙ্গে বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি। সংঘাত যদি ফের শুরু হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন রূপ নেবে বলে শঙ্কা বিশ্বব্যাংকের।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি, যা এ বছর প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভবত ২০০-৩০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়বে। সংঘাত যদি আরও কঠিন রূপ নেয়, তবে তা আরও অনেক বেশি হবে। তাই এ বিষয়টিকে বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির পরিসর হিসেবে দেখা উচিত।’

বিশ্ব অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। অন্যান্য উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে ১০০ কোটি মানুষের জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

জেআর