নিখোঁজের দিন বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে.এম. তাহসিফ সৌরির সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটান দীপ। পিবিআইয়ের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করে বেরিয়ে পড়েন।
আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার একটি ভবনে প্রবেশ করছেন তাহসিফ ও দীপ, সঙ্গে ছিলেন এক তরুণী। পরবর্তীতে মধ্যরাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় দু’জনকে বাইকে করে তুরাগ তীরে যেতে দেখা যায়।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, সেখানেই পুলিশের মতো পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করেন। এসময় তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। তবে তার এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা।
এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা। মামলায় সৌরির জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এরপর শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ২টার পর দীপকে আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তদন্তের স্বার্থে বিরোধিতা না করে রিমান্ড কম দেয়ার আবেদন করা হয়।
আসামিপক্ষ আইনজীবী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আজিজুল হক দিদার বলেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার যে ভিডিওটা হয়েছে, উনিই এই ভিডিওটি করেছিলেন এবং মিডিয়াতে দিয়েছিলেন। আসামিকে আদালতে গ্রেপ্তার করে আনা হয়েছে। আসামিপক্ষ জামিন শুনানি করেছেন এবং রিমান্ড শুনানি করেছেন। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে। আমরা রিমান্ড শুনানি করেছি। বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট হয়ে ৪ দিনের রিমান্ড দেন।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আসলে ৭ দিনের যে সময়টা, সেই সময়টা আইনজীবী হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আইনের যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে কিছুটা বেশি। দুই দিন আর্জি আমাদের পক্ষ থেকে ছিলো।’
এদিকে, দীপের বরাত দিয়ে তাহসিফের বাবা কে.এম এনায়েতুল করিম জানান, ওই রাতে দীপ তাহসিফকে বাসার কাছাকাছি নামিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বক্তব্যের সঙ্গে পিবিআইকে দেয়া দীপের তথ্যের মিল না থাকায় সন্দেহ পোষণ করেছে তাহসিফের বাবা।
তাহসিফের বাবা বলেন, ‘তদন্তের সামান্যটুকু আমরা দেখেছি যে, সেখানে পরবর্তীতে সে স্বীকার করেছে টঙ্গীতে তারা গিয়েছিলো একসঙ্গে। দীপ আমাকে বলেছিলো যে, সে আমার ছেলেকে এই কম্পাউন্ডের মধ্যে রেখে গিয়েছিলো। বিষয়গুলো আসলে প্রশ্নবিদ্ধ।’
অন্যদিকে, শনিবার সকালে তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন সশস্ত্রবাহিনীর সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা। মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি তাদের।
রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নাওরাজ খুরশিদ আলম বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং তাদের কাছে রক্ষিত সিসিটিভির মাধ্যমে তারা অনুসন্ধান করছে। আশা করি খুব দ্রুত তারা এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করবে।’
রাওয়ার সদস্য মেজর আল আমিন বলেন, ‘এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং দোষীদের বিচার চাই।’
এসময় তাহসিফ হত্যার সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত সোচ্চার থাকার হুঁশিয়ারি দেন সাবেক কর্মকর্তারা।





