‘ভুটানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ নির্মাণে দ্রুত এগোচ্ছে কাজ: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: পিএমও
0

কুড়িগ্রামে ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি এরইমধ্যে প্রকল্প এলাকায় ১৩৩ একর জমির মালিকানাও পেয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

আজ (বুধবার, ১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

‘ভুটানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল’র অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ভুটানের মহামান্য রাজা কুড়িগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর প্রেক্ষিতে, ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের যোগাযোগ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বেজা কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার মাধবরাম মৌজায় ‘কুড়িগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চল-১’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে ভুটানের রাজার আগ্রহের ভিত্তিতে জিটুজি যৌথ উদ্যোগের অধীনে বেজা উক্ত স্থানে একটি ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করে।

আরও পড়ুন:

জমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদ নেতা জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার জন্য বেজার অনুকূলে ১৫০ দশমিক ০৭ একর খাস জমি এবং ৬৯ দশমিক ৫৭ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বরাদ্দ বা অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত বেজা ওই মৌজায় ১৩৩ দশমিক ৯২ একর জমির মালিকানা লাভ করেছে। এছাড়া, একই মৌজায় আরও ৬১ দশমিক ৮৭ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন:

ভুটানের রাজার বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের মহামান্য রাজা ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। সফরকালে তিনি প্রস্তাবিত ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে জিটুজি ভিত্তিতে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বর্তমান কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’র জন্য ভুটান সরকার কর্তৃক দ্রুত ডেভেলপার কোম্পানি নিয়োগ এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে বেজা।

এসএস