ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

হাসপালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী
হাসপালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী | ছবি: এখন টিভি
0

বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসার জন্য নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় স্থানান্তর বাড়াচ্ছে মানুষের ভোগান্তি। চিকিৎসক ও কীটতত্ত্ববীদদের শঙ্কা, এখনই পদক্ষেপ না নিলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে ডেঙ্গু।

এ শহরে যাপিত জীবনে সমস্যার অন্ত নেই। নানা সংকট আর অসঙ্গতির মাঝেই দিন কাটাতে হয় নগরবাসীকে। এ যেমন অল্প বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। আর এ জমে থাকা পানি নিয়ে আসে ডেঙ্গু আতঙ্ক।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়। রাজধানী তো বটেই, বাইরের জেলা শহর থেকেও ডেঙ্গু রোগী আসছেন ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। তারা বলছেন, এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ছুটতে হয়েছে ঢাকায়। পাশাপাশি এডিস মশার প্রকোপ কমানোর দাবিও জানান তারা।

রোগীর স্বজনরা জানান, বেশকিছু দিন অসুস্থ থাকার পর এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। তা ছাড়া জেলা শহরে ঠিকমতো চিকিৎসা না পাওয়ার কথা ও জানান তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মাসের ২১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৭৫৩ জন। গেল জুন মাসে যা ছিলো ১ হাজার ৭০০ মত।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত ডেঙ্গু দমনে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া না হলে বাড়তে পারে ভয়াবহতা। রোগীদের সুস্থতার জন্য যথাযথ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত আছে বলেও জানান তারা।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় রোগী যেমন আছে। পাশাপাশি একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বিভিন্ন জেলার রোগী এখানে আসছে রেফার হয়ে। জ্বরে আক্রান্ত হলেই চিকিৎসার আওতায় চলে আসছে। যদি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের গাইডলাইন অনুসরণ করে চিকিৎসা নিলে আর কোনো দুশ্চিন্তার কারণ থাকবে না।’

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তাই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাড়তে পারে আক্রান্তের সংখ্যা।

কীটতত্ত্ববীদ অধ্যাপক কবিরুল বশার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা এবং উপজেলাতে এই মুহূর্তে এডিস মশার ঘনত্বের ইনডেক্স ২০ এর উপরে আছে। যা ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থা নিতে না পারি, তাহলে আগামী মাস— বিশেষ করে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর—এই দুটি মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার একটি ঝুঁকি আছে।’

ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনসচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ ই বিশেষজ্ঞের।

জেআর