মোটরবাইকের বিকট শব্দে বিপর্যস্ত নগরজীবন; স্থায়ী সমাধানে সচেতনতার তাগিদ

মোটরবাইক
মোটরবাইক | ছবি : এখন টিভি
0

রাজধানীর সড়ক-মহাসড়কে হরহামেশাই চলছে বিকট শব্দের তাণ্ডব। মোটরবাইকে আফটার মার্কেট এক্সজস্ট লাগিয়ে শব্দ বাড়িয়ে স্টাইল দেখানোর এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন পৌঁছেছে উদ্বেগজনক মাত্রায়। এতে শুধু তীব্র শব্দদূষণই হচ্ছে না, ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এই শব্দসন্ত্রাস রুখতে মোটরযান আইনের কঠোর প্রয়োগ ও অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং ক্ষতিকর এই এক্সজস্ট বিক্রির লাগাম টানতে পারলেই মিলবে স্থায়ী সমাধান।

বিকট শব্দ সঙ্গে বেপরোয়া গতির উন্মাদনা। দিন কিংবা রাত, রাজধানীর সড়ক যেন একেকটা মরণফাঁদ! বাড়তি শব্দ আর তথাকথিত স্টাইল আর সস্তা আনন্দের এই সংস্কৃতি দিন-রাত কেড়ে নিচ্ছে নাগরিক স্বস্তি।

সাধারণ একটা মোটরবাইক কীভাবে হয়ে উঠছে এমন শব্দসন্ত্রাসী? রহস্য লুকিয়ে আছে সাইলেন্সার বদলে ফেলা এই নিষিদ্ধ আফটার মার্কেট এক্সজস্টে। শখের নামের এই যন্ত্রাংশটিই আসলে ডেকে আনছে মৃত্যুঝুঁকি; যার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক, হৃদরোগী ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা।

সড়ক ও জনপদে বিকট শব্দ তুলে দাপিয়ে বেড়ানো এই বাইকারদের রুখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘প্রায় ১৩ হাজারের মতো মামলা হয়েছে, সাড়ে ১৩ হাজার। এবং প্রায় ২ কোটি টাকা জরিমানা কিন্তু আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এবং যারা রিপিটেড অফেন্ডার, তাদের সেই যানবাহনটি জব্দ করা হয়। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এই জিনিসগলো যদি সঠিকভাবে শিক্ষা দেয়া হয় যে, নিজের চলাচলটা শুধু নয়, অন্যের কথাও ভাবতে হবে—তাহলে জিনিসটা বোধহয় অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে। এবং আইনের প্রয়োগ তারপরেও যেটা পুলিশের দিক থেকে করা, সেই সেটা আমরা করব।’

আরও পড়ুন:

তথ্য বলছে, গেল এপ্রিলে শব্দদূষণের দায়ে মামলা হয়েছিল ৩ হাজার ৩৩৫টি। মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮৮১টিতে। আর সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে মামলার সংখ্যা একলাফে পৌঁছায় ৬ হাজার ২০০-তে। সব মিলিয়ে জরিমানার অঙ্ক ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকারও বেশি।

প্রশ্ন হলো, যে এক্সজস্ট লাগিয়ে এ শব্দদূষণ, সেগুলো কোথায়, কিভাবে লাগাচ্ছে ? রাজধানীর মিরপুর, বংশাল কিংবা পল্লবীর বেশ কিছু দোকানেই চলে এ কার্যক্রম। মিরপুর বাইক পার্টস মার্কেটে ঢুকতেই ক্যামেরা দেখে অস্বস্তি বিক্রেতার।

দোকানদারদের একজন বলেন, ‘এখন যদি কাস্টমারের চাহিদা থাকে, সেই ক্ষেত্রে কিছু করার নেই। আমাদের তো একটা ইনকামের রাস্তা তৈরি করতে হবে, তাই না? যারা ইনপোর্ট করে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা যদি ইনপোর্ট না করে, আমরা কি বেচতে পারি?’

বিক্রেতারা না জানলেও ২০২৫ সালে সংশোধিত সড়ক পরিবহন আইনের ৬ নম্বর ধারাতেই আছে বিপনন ও বিক্রির নিষেধাজ্ঞা। আফটার মার্কেট এক্সজস্টের অবাধ বিক্রি আর ব্যবহার বন্ধ না হলে শব্দদূষণ কমানো কঠিন বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়ক ফজলে এলাহী বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫-এ এখানে আমদানিকারক, উৎপাদক, বিক্রেতাসহ ব্যবহারকারী সবাইকেই আইনের আওতায় আনার বিধি যুক্ত করা হয়েছে। তো আগে যেটা ছিলো না, এখন কিন্তু ২০২৫-এ আপনি সবাইকেই আইনের আওতায় আনতে পারবেন। এবং প্রত্যেকটা স্টেকহোল্ডারের ভিন্ন ভিন্ন জরিমানার প্রভিশন রয়েছে। কারণ সবাই সচেতন হলেই এই শব্দদূষণটা কমবে।’

ক্ষণিকের আনন্দ আর তথাকথিত স্টাইলের শখ যেন অন্যের ভোগান্তির কারণ না হয়। তাই শব্দ নয়, দায়িত্বশীলতাই হোক তরুণ প্রজন্মের পরিচয়।


এফএস