ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

জুলাই অভ্যুত্থান
জুলাই অভ্যুত্থান | ছবি: সংগৃহীত
0

আজ ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই। ২০২৪ সালের ঘটনাবহুল এ দিনে পতন হয় শেখ হাসিনার ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামল। একদিন এগিয়ে আনা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয় রাজধানী। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। গণভবন ও সংসদ ভবনে তৈরি হয় উল্লাসিত জনতা ইতিহাস। বিজয়, সেনাপ্রধানের ভাষণ আর নেতৃত্ব দেয়া সমন্বয়কদের বহুল প্রতীক্ষিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয়গাঁথা রচিত হয় সেদিন।

৫ আগস্ট সোমবার, ২০২৪, ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ। আগের দিনের এই ঘোষণা সরকার পতনের শেষ পেরেক। গণহত্যার বিপরীতে আপামর জনতার লংমার্চ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মত বিস্ফোরিত হওয়ার অপেক্ষায়।

লংমার্চ প্রতিরোধে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে ভোরের আলো ফোটার আগেই পুলিশ, র‌্যাব আর সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান। কাটাতার, মারণাস্ত্র আর সাজোয়া যানের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল নড়ে যাওয়া গদি রক্ষায় নির্মমতায় শেষ পর্যায়ে নামতে প্রস্তুত ততকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার।

সকাল ৭টা পর্যন্ত আন্দোলনের ৩ হটস্পট যাত্রাবাড়ি, উত্তরা ও রামপুরায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ছাড়া ছিল না তেমন কেউ। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর শঙ্কার সংমিশ্রণে গুমোট ঢাকার রাজপথ। কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতনের মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাসহ সকাল থেকেই চাঁনখারপুল ও নিমতলীতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে ছাত্র-জনতা। সকাল ১০টার পর থেকে খারাপ হতে থাকে পরিস্থিতি। গুলি আর টিয়ারশেলে নির্মম প্রতিরোধের চেষ্টা চালায় পুলিশ বাহিনী। এদিন নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে চাঁনখারপুলেই প্রাণ হারায় শহীদ আনাসসহ আরও ৬ জন।

আরও পড়ুন:

একই সময়ে ভিড় বাড়তে থাকে রামপুরা, উত্তরা আর যাত্রাবাড়ির অলি-গলিগুলোতে। ধীরে ধীরে জড়ো হওয়া জনতা মধ্যদুপুরের মধ্যে রূপ নেয় জনসমুদ্রে। কারফিউ ভেঙ্গে, নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সারা দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রাজধানীতে প্রবেশ করতে থাকে মুক্তিকামী জনতা। জনসমুদ্রের ঢেউতে ভেঙ্গে পড়তে থাকে একের পর এক নিরাপত্তা বেষ্টনি। ইতিহাসের মহাকাব্যের তখন বাকি আর কয়েক ঘণ্টা।

এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গণভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নেন শেখ হাসিনা। দেশের আপামর জনতার ওপর সেনাবাহিনীর গুলি ছুঁড়তে অপারগতা উপসংহার টেনে দেয় ১৭ বছরের এক বন্দিশালার। দুপুর ২টার মধ্যে খবর আসে হেলিকপ্টারে করে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। এমন খবরে বিজয় উল্লাস করে গণভবন ও সংসদ ভবনমুখী হয় ছাত্র জনতা।

এদিন বিকেল পৌনে চারটার কিছু পরে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করে এবং দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন সেনা প্রধান। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ঐতিহাসিক এই দিনের শেষ হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বহুল প্রতীক্ষিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। ৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পেশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। এর ৩ দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহম্মদ ইউনুসকে প্রধান করে ১৪ জন উপদেষ্টা নিয়ে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এফএস