বন্যায় ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; বিশেষ ঝুঁকিতে ১৭ হাজার গর্ভবতী নারী

ইউএনএফপিএ’র প্রতিবেদন

ইউএনএফপিএর লোগো
ইউএনএফপিএর লোগো | ছবি: সংগৃহীত
0

জুলাই-আগস্টের বন্যা ও ভূমিধসে চট্টগ্রাম বিভাগের ৭ জেলায় প্রায় ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার কিশোরী ও ১৭ হাজার ৪৯০ গর্ভবতী নারী রয়েছেন। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) গতকাল (মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট) প্রকাশিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪৩ হাজার শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ হাজার ৭০৭ জন নতুন করে বাস্তুচ্যুত। এছাড়া ১৫ হাজার ৬০০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রায় ২০০ জন হিজরা জনগোষ্ঠী চরম সংকটে রয়েছেন।

বান্দরবান জেলায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এই জেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গর্ভবতী নারী বন্যাদুর্গত এলাকায় আটকা পড়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হাসপাতালে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুটি নারীবান্ধব কেন্দ্র ও চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে।

অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড়, আলোর অভাব, গোপনীয়তা ও পৃথক স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ করছে বলে জানিয়েছে ইউএনএফপিএ। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের মতো নেতিবাচক প্রবণতা বাড়ছে।

ইউএনএফপিএ এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৮ জন নারীকে স্বাস্থ্যসেবা, সাড়ে ৪ হাজার ডিগনিটি কিট (নারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসামগ্রীর প্যাকেজ) ও ১ হাজার ৯৫১টি মাসিকের স্বাস্থ্যসামগ্রী দিয়েছে। কিন্তু জরুরি সেবা চালু রাখতে প্রয়োজন ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩০ ডলারের (প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা) মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৩০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা)। ঘাটতি ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬০০ ডলার (প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ টাকা)।

প্রতিবেদনে জরুরি প্রসূতি সেবা ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নিশ্চিতকরণ এবং ৮৭ শতাংশ তহবিল ঘাটতি দূর করার জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এনএইচ