নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ থাকছে না। এর ফলে ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও পারিবারিক বিরোধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
উত্তরাধিকার সূত্রে জমি নামজারির নতুন পরিবর্তনসমূহ (Key Changes in Inheritance Mutation Rules)
ভূমি রেকর্ড প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন নিয়মে যেসব বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
- ১. যৌথ নামজারি বাধ্যতামূলক: মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সকল ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে সহ-অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে (Joint mutation rules for heirs BD)।
- ২. বণ্টননামা ছাড়া পৃথক খতিয়ান নয়: রেজিস্ট্রি করা আনুষ্ঠানিকভাবে বণ্টননামা না থাকলে পৃথক খতিয়ান খোলা যাবে না। তবে বণ্টননামা না থাকলেও ওয়ারিশদের যৌথ নামজারির আবেদন খারিজ করা যাবে না।
- ৩. ওয়ারিশ সনদ জমা দেওয়া আবশ্যক: ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরের কাছ থেকে সংগৃহীত সঠিক ওয়ারিশ সনদের তথ্য আবেদনে যুক্ত করতে হবে (Warish sonod required for land e-mutation)।
- ৪. পৃথক খতিয়ানের শর্ত: নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে আলাদা নামজারি খতিয়ান করতে চাইলে অবশ্যই আগে নিবন্ধিত বণ্টননামা দলিল (Registered partition deed for separate khatian) সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন:
অনলাইনে ই-নামজারি করার সহজ ধাপসমূহ (Step-by-step Online e-Mutation Application Process)
ভূমি সেবা সংক্রান্ত সরকারি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে ঘরে বসেই ই-নামজারি আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব (Online e-mutation land gov bd steps):
- প্রথম ধাপ: ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট land.gov.bd-এ প্রবেশ করে ই-নামজারি অপশনটি বেছে নিতে হবে।
- দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনকারীর পরিচয় তথ্য, জমির অবস্থান (মৌজা), খতিয়ান ও দাগ নম্বর পূরণ করতে হবে।
- তৃতীয় ধাপ: মালিকানার ধরণ (ক্রয়কৃত নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে) সিলেক্ট করতে হবে। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সকল ওয়ারিশের বিবরণ সঠিকভাবে পূরণ বাধ্যতামূলক।
- চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় নথি; যেমন খতিয়ানের কপি, নিবন্ধিত দলিল, ওয়ারিশ সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ডিজিটাল ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে (e-Mutation required documents list BD)।
- পঞ্চম ধাপ: নির্ধারিত আবেদন ফি অনলাইনে পরিশোধ করে আবেদন সাবমিট করতে হবে এবং ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ করতে হবে (E-mutation application track and fee submission)।
আরও পড়ুন:
নামজারি না করার ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Risks of Not Mutating Land and Required Documents)
জমির সঠিক নামজারি না থাকলে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দেওয়া যায় না, জমি বিক্রি বা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা দেখা দেয় এবং প্রতারণার আশঙ্কা বাড়ে (Risks of not completing land mutation BD)।
- প্রয়োজনীয় নথিপত্র: জমি কেনার ক্ষেত্রে বায়রা দলিল/মূল দলিল, আগের খতিয়ানের কপি, এনআইডি ও খাজনার রশিদ। ওয়ারিশি জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ, ক্ষেত্রভেদে মৃত্যুসনদ ও নিবন্ধিত বণ্টননামার কপি জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন :

