জিলহজ্ব মাসে চুল ও নখ কাটা নিয়ে যা জানা জরুরি: ইসলাম ও হাদিসের বিধান

কোরবানির আগে চুল নখ কাটার নিয়ম
কোরবানির আগে চুল নখ কাটার নিয়ম | ছবি: এখন টিভি
0

ইসলাম ধর্মে জিলহজ্ব (Dhul Hijjah) মাস অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। মক্কায় গিয়ে হজ করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে এমন মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ (Farz)। অন্যদিকে, সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর প্রতি বছর ১০ জিলহজ্ব কোরবানি করা ওয়াজিব (Wajib)। তবে কোরবানি করার পাশাপাশি জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিন কোরবানিদাতার জন্য কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নখ ও চুল না কাটা (Rules of Cutting Hair and Nails in Dhul Hijjah)।

একনজরে জিলহজ্ব মাসের চুল-নখ কাটার শরিয়তি বিধান (Quick Islamic Guide: Hair & Nails Rules)

বিষয় (Topic) শরিয়তের বিধান ও ফতোয়া (Islamic Ruling) সওয়াব ও গুরুত্ব (Significance)
জিলহজ্ব ১ থেকে ১০ তারিখ (1-10 Dhul Hijjah) কোরবানি করার ইচ্ছা থাকলে এই দিনগুলোতে চুল, নখ, গোঁফ বা শরীরের কোনো লোম কাটা থেকে বিরত থাকা সুন্নত/মুস্তাহাব। রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ
ভুলবশত কেটে ফেললে (If Cut by Mistake) এটি কোনো হারাম বা কবিরা গুনাহ নয়। ভুলবশত বা প্রয়োজনের তাগিদে কাটলে কোরবানির কোনো ক্ষতি হবে না। কোরবানি শুদ্ধ হবে
যিনি কোরবানি দেবেন না (Non-Qurbani Giver) যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তারাও হাজীদের সাথে সাদৃশ্য রেখে নখ-চুল না কাটলে সওয়াব পাবেন। নফল আমলের সওয়াব
কোরবানির পশু জবাইয়ের পর (After Slaughtering) ১০ জিলহজ্ব পশু কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত নখ ও চুল কেটে পরিষ্কার হওয়া সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। নেক আমলে গণ্য হবে

আরও পড়ুন:

অনেকেই ভুলবশত জিলহজ্ব মাসে কোরবানির আগে নখ বা চুল কাটাকে সম্পূর্ণ 'হারাম' বা নিষিদ্ধ মনে করেন। তবে ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের (Islamic Jurists) মতে, এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। হাদিসের আলোকে এটি একটি বিশেষ সুন্নত বা উত্তম আমল।

হাদিসের আলোতে চুল ও নখ কাটার প্রসঙ্গ (Hadith on Not Cutting Hair and Nails)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন কোরবানিদাতাদের নখ ও চুল কাটা থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সহিহ মুসলিমের (Sahih Muslim) একটি বিখ্যাত হাদিসে এসেছে:

নবীজি (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যদি কোরবানি (Qurbani) দেওয়ার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন জিলহজ্ব মাস শুরু হওয়ার পর থেকে কোরবানির পশু জবাই করার পূর্ব পর্যন্ত তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।"

জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের করণীয় ও বর্জণীয় (Do's and Don'ts of First 10 Days of Dhul Hijjah)

পবিত্র কোরআন (Quran) ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ১০ দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

করণীয় আমলসমূহ: এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নেক আমল (Good Deeds) করা, জিলহজ্ব মাসের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা (Fasting), বেশি বেশি তাসবিহ, তাহলিল ও তাহমিদ (আল্লাহর জিকির) পড়া এবং কোরবানির উত্তম প্রস্তুতি নেওয়া।

বর্জণীয় বিষয়সমূহ: যারা কোরবানি দিতে চান, তারা কোরবানির আগে চুল, নখ বা শরীরের কোনো লোম কাটা থেকে বিরত থাকবেন। তবে যারা কোরবানি দেবেন না, তারাও সওয়াবের আশায় এই আমলটি করতে পারেন।

আরও পড়ুন:

ফেকাহবিদ ও বিভিন্ন মাজহাবের মতামত (Islamic Scholars Consensus)

জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিন চুল ও নখ কাটার ব্যাপারে বিভিন্ন মাজহাবের ইমাম ও ফেকাহবিদদের (Islamic Scholars) মাঝে কিছুটা মতভিন্নতা রয়েছে:

ইমাম মালিক, ইমাম আহমদ এবং ইমাম শাফি (রহ.): তাদের মতে, এই সময়ে কোরবানিদাতাদের জন্য নখ ও চুল কাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এই আমলটি প্রায় ফরজের সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হানাফি মাজহাব (Hanafi Madhab): হানাফি মাজহাবের আলেমদের মতে, জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিন চুল ও নখ না কাটা 'সুন্নতে মুয়াক্কাদা' বা মুস্তাহাব (উত্তম)। অর্থাৎ, না কাটাই শ্রেয় এবং কাটলে কোনো গুনাহ বা কোরবানি বাতিল হবে না।

কোরবানির পর চুল ও নখ কাটার নিয়ম (Cutting Hair and Nails After Qurbani)

১০ জিলহজ্ব নিজের কোরবানির পশু জবাই সম্পন্ন করার পর চুল, মোচ বা নখ কাটা সম্পূর্ণভাবে বৈধ (Halal)। আলেমগণ বলেন, হজে না গিয়েও যারা নিজ দেশে এই সুন্নতটি পালন করেন, তারা হাজীদের সদৃশ হওয়ার সওয়াব পাবেন। উপরন্তু, কোরবানির পর কেটে ফেলা এই চুল ও নখ হাশরের ময়দানে নেক আমলের (Virtuous Deeds) পাল্লায় যুক্ত হবে।

এই দিনগুলোতে চুল-নখ কাটা হারাম নয়, তবে রাসুল (সা.) এর সুন্নতের অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটি না কাটা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

আরও পড়ুন:

এসআর