ফুটপাথে বই, হাতে স্মার্টফোন। আঙুলের ইশারায় বদলে যাচ্ছে পর্দা, আর কয়েক সেকেন্ডের রিলসেই আটকে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের অবসর।
একসময় অবসরের সঙ্গী ছিল বই। এখন সেই জায়গা দখল করেছে রিলস, শর্টস আর একের পর এক নোটিফিকেশন। প্রযুক্তির দ্রুতগতির ভিড়ে কয়েকশো পৃষ্ঠার বই পড়ার ধৈর্য হারাচ্ছে নাগরিক সমাজ।
পাঠকরা জানান, বই পড়া দিবসে কাউন্ট করেছি যে কয়টা বই পড়তে পেরেছি এবং এটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই। রিকশা চলার মাঝে মাঝেও আমি বই সংগ্রহ করি, এখানেও পড়ি আরকি। তবে, বই পড়ার প্রতি কোনো আগ্রহ বর্তমানে নাই। সারাদিন ব্যস্ততার মধ্যে মুভি দেখা, এই সিরিজ দেখা—এগুলা করে হয়। তো বই পড়া হয় না। মানে আমার যেটা জানার আগ্রহ, তা আমরা রিলসের মাধ্যমেই পেয়ে থাকি।
আর যেটুকু পড়া অবশিষ্ট, তার বড় অংশই চাকরির প্রস্তুতির গাইড বই। আত্মিক তৃপ্তি কিংবা জ্ঞানচর্চার বদলে চাকরির বাজারে টিকে থাকার অন্ধ প্রতিযোগিতায় হারিয়ে যাচ্ছে পাঠের মূল আনন্দটাই ।
তবে এই নাগরিক কোলাহলের মাঝেও আশার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে কিছু আড্ডাস্থল। শাহবাগ, ধানমন্ডি বা বাংলা মোটর কেন্দ্রিক জায়গাগুলোতে এখনো নিঃশ্বাস নেয় নিখাদ পাঠক সত্তা। এখানেই ভেতরের পাঠক সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা বইপ্রেমীদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, রিডিং রুমে যেয়ে পড়ে থাকে, সে চাকরির বই-খাতা নিয়ে পড়ে থাকে। আমি যে সাহিত্যপ্রেমী কাউকে যদি পাই বা দেখতে পাই, তেমন আসলে চোখে পড়ে না।
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার আক্ষেপও আছে। পাঠককে ফিরিয়ে আনতে হলে বইকে পৌঁছে দিতে হবে পাঠকের নতুন অভ্যাসের কাছে। পিডিএফ, ই-বুক কিংবা অডিওবুক হতে পারে সেই পথের কার্যকর মাধ্যম, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানুষকে বইয়ের কাছে ফেরানো কঠিন। তবে বইকেই পৌঁছে দিতে হবে মানুষের নতুন অভ্যাসের কাছে। হাতে কিংবা ডিভাইসে, যে মাধ্যমেই হোক, সচল থাকুক বই। বেঁচে থাকুক পাঠক সত্তা।





