মোবাইল সেবায় সর্বোচ্চ কর বাংলাদেশে; বিপাকে গ্রাহক, করছাড়ের দাবি সংশ্লিষ্টদের

মোবাইল রিচার্জ করছে গ্রাহক, নেটওয়ার্ক টাওয়ার
মোবাইল রিচার্জ করছে গ্রাহক, নেটওয়ার্ক টাওয়ার | ছবি: এখন টিভি
0

মুঠোফোন সেবায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ কর দিতে হয় বাংলাদেশে। আর এই কর সীমিত সেবায় পকেট কাটে গ্রাহকের। কর না কমলে কথা কিংবা ডাটার খরচ কমাতে পারবে না অপারেটররা। অ্যামটব বলছে, সিম ট্যাক্স কমানো ও সারচার্জ না রাখা এবারের বাজেট সামনে রেখে তাদের বড় দাবি।

নতুন একটি সিম কেনা কিংবা রিপ্লেস দুই ক্ষেত্রেই এর খরচ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চারশো টাকা। এর মধ্যে প্রায় তিনশো টাকাই কর হিসেবে কেটে নেয় সরকার। নতুন সংযোগের এমন দাম গ্রাহকদের জন্য যেমন কষ্টসাধ্য তেমনি মোবাইল অপারেটরদের জন্যও বিড়ম্বনার।

দেশে প্রায় ১৯ কোটি যে গ্রাহক আছে তারা মুঠোফোনে কথায় গড়ে ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত খরচ করে। ডাটা ব্যবহার করলে তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি ১০০ টাকায় মোবাইল অপারেটরদের ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ মিলে প্রায় ৩৯ টাকার মতো দিতে হয় সরকারকে। বিপরীতে ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ও ভারতে ট্যাক্স মাত্র সাত থেকে ১৮ টাকা। পাকিস্তানেও ৩৩ টাকা। সে হিসেবে বাংলাদেশের ট্যাক্স দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

মোবাইল অপারেটরদের দাবি, মুঠোফোন ব্যবহার এখন বিলাসিতা নয় এটি সার্বিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম চাবিকাঠি। তাই এতে অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব গ্রাহকদের ওপর পড়ছে। তাই সিম ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর কমানোর প্রস্তাব তাদের।

আরও পড়ুন:

গ্রামীনফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীল মোহাম্মদ বলেন, ‘একটা হচ্ছে যে ব্যবসাকে এইভাবে রেখেই আমি আরও বেশি বেশি ট্যাক্স ইম্পোজ করে রেভিনিউ বাড়াবো? অথবা আমরা জিনিসটাকে আরও এক্সপ্যান্ড করতে দিয়ে, আরও বেশি ইউজেজ এনসিওর করে, আরও বেশি সাবস্ক্রাইবারকে যদি এনসিওর করতে পারি, তাহলে কিন্তু আমার ভলিউমটা অনেক বেড়ে গেল। সেভাবেও কিন্তু রেভিনিউয়ের দিকে তারা দেখতে পারেন।’

রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স বলে একটা জিনিস আছে, যেটা একেবারে টোটালি আননেসেসারি, আনইর‍্যাশনাল আমাদের কাছে মনে হয়েছে সবসময়। যে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্সটা যাতে উঠিয়ে দেয়া হয়। দ্বিতীয় নম্বর যেটা আমরা আশা করছি, যেটা অলরেডি আমরা বিভিন্নখান থেকে ইন্ডিকেশন পাচ্ছি— যে ভ্যাট যেটা ১৫% আছে, সেটা সবকিছুর ওপর ১৫% হবে। সেটা যদি হয়, তাহলে কিন্তু রিবেট মেকানিজমটা যাতে কাজ করে।’

অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, বিলাসী পণ্যতে সারচার্জ ধরা হয়, অথচ মুঠোফোনে কথা ও ডাটা ব্যবহার বিলাসিতা নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ সেবা। তাই অন্যান্য দেশের মতোই এ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে এ খাতে আরও ট্যাক্স কমানোর দাবি সংগঠনটির।

আরও পড়ুন:

অ্যামটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, ‘ডিরেক্ট করটা না নিয়ে বরং এটাকে কমিয়ে দিয়ে সরকার যদি এই ডিজিটালাইজেশনকে যদি এনকারেজ করে, অথবা এই অবকাঠামোর উন্নতির জন্য যদি অপারেটরদেরকে একটু হেল্প করে, সেক্ষেত্রে দেখা যাবে যে সরকারের ইনডাইরেক্ট ম্যানারে তাদের অনেক বেশি আহরণ হবে তাদের ন্যাশনাল জিডিপিতে।’

জুন মাসের ৭ তারিখ শুরু হবে সংসদের বাজেট অধিবেশন। এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবে বর্তমান সরকার।

এসএস