বিশ্বকাপে গোলের পরিসংখ্যানে ভেঙে গেলো আগের সব রেকর্ড!

ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি
ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি | ছবি: সংগৃহীত
0

এ যেন গোলের বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের গোলের পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে গেছে আগের যেকোনো আসরকে। ম্যাচপ্রতি গোলসংখ্যা তো বটেই, গোলের উৎসের ক্ষেত্রেও ছিলো চমক।

জমজমাট সব ম্যাচ আর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। যেখানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। উত্তর আমেরিকার তিন দেশে অনুষ্ঠিত এই আসরে দেখা গেছে গোলবন্যা, হয়েছে রেকর্ড ভাঙার খেলা।

এবারের আসরে ১০৪ ম্যাচে হয়েছে মোট ৩০৮টি গোল। ম্যাচপ্রতি গোল গড় ২ দশমিক ৯৬, যা ১৯৭০ সালের পর বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। কাতার বিশ্বকাপে এই গড় ছিলো ২ দশমিক ৬৯, রাশিয়ায় ২ দশমিক ৬৪ এবং ব্রাজিল বিশ্বকাপে ২ দশমিক ৬৭।

গোলদাতাদের জন্য এটা ছিলো স্বপ্নের বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো এক আসরে ছয়জন ফুটবলার ছয় বা তার বেশি গোল করেছেন। সর্বোচ্চ ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর আছেন যথাক্রমে লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহাম ও আর্লিং হালান্ড। উসমান দেম্বেলে ও হ্যারি কেইনও করেছেন ৬টি করে গোল।

আরও পড়ুন:

গোলের উৎসের পরিসংখ্যানেও ছিলো চমক। সেট-পিস থেকে এসেছে ৫৪ গোল, যার মধ্যে ১৬টি পেনাল্টি। মোট গোলের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশই এসেছে কর্নার, ফ্রি-কিক বা লং থ্রো থেকে। বক্সের বাইরে থেকে হয়েছে ৪৩টি গোল, যা মোট গোলের ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। কাতার বিশ্বকাপে এই হার ছিলো মাত্র ৮ শতাংশ। সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণ ছিলো উইং থেকে। ক্রস থেকে হয়েছে ৭৫টি গোল, অর্থাৎ প্রতি চার গোলের প্রায় একটি এসেছে ক্রস থেকে।

ক্লাবের হিসেবে সবচেয়ে বেশি ২২ গোল এসেছে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। ১৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পিএসজি, দুই গোল কম নিয়ে তৃতীয় আর্সেনাল। অন্যদিকে, লিগের হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৭৯ গোল করেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়রা, যা মোট গোলের ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে লা লিগা, বুন্দেসলিগা, লিগ ওয়ান এবং সিরি আ।

সবমিলিয়ে ইতিহাসের অন্যতম আক্রমণাত্মক ও পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে ২০২৬ বিশ্বকাপ।

এফএস