অর্থ সংকট, স্বল্পমেয়াদি ক্যাম্প—তবুও স্বপ্ন এশিয়ান গেমসে সাফল্যের

এশিয়ান গেমসের শ্যুটারদের অনুশীলন
এশিয়ান গেমসের শ্যুটারদের অনুশীলন | ছবি: এখন টিভি
0

আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী ক্যাম্পে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আছে প্রশ্ন। তবুও জাপানের আইচি-নাগোয়ায় হতে যাওয়া আসন্ন এশিয়ান গেমসে ভালো করতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির চেষ্টায় শ্যুটিং ফেডারেশন। খেলোয়াড়রাও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসী।

যেকোনো গেমসেই শ্যুটিং থেকে পদকের প্রত্যাশা থাকে বাংলাদেশের। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। সেখানে সাফল্য পেতে ১২ জন শ্যুটার নিয়ে ফেডারেশন ভবনে চলছে এক মাসের প্রস্তুতি ক্যাম্প।

ক্যাম্প চালাতে প্রয়োজন অর্থ। এরইমধ্যে ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও এশিয়ান গেমসের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পায়নি শ্যুটিং ফেডারেশন। সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতির চেষ্টা চলছে বলে জানালেন ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্না।

তিনি বলেন, ‘অলিম্পিক থেকে তেমন কোনো ফান্ড এখনও পর্যন্ত আমাদের ফেডারেশনে আসেনি। বরাদ্দ তো আছেই, হয়তো সেগুলো চলে আসবে। বাট আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই আপাতত চলছে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ম্যানটাই বেসিক্যালি ফোকাসে আছে। আশা করি যে ওদের দ্বারাই হয়তো যদি কোনো একটা ভালো পারফর্মেন্স আসে বা রেজাল্ট আসে ওরা করতে পারবে। ওদিকে আমাদের যে ৫০ মিটার টিমটা আছে, সেখানেও আব্দুল্লাহ হেল বাকি আছে, দিশা আছে মেয়েদের ভেতরে। আশা করি ওরাও একটা স্ট্যান্ডার্ড স্কোর করে আসবে।’

যেকোনো প্রতিযোগিতায় ভালো করার পূর্বশর্ত দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি ও অনুশীলন। নানা দিকে ঘাটতি থাকলেও পদকের আশা ফেডারেশনের।

আরও পড়ুন:

শারমিন আক্তার রত্না বলেন, ‘একটা বড় গেমসকে লক্ষ্য রেখে যে ধরনের ফ্যাসিলিটিস দেয়া উচিত, সেটা তো আমাদের পক্ষে আসলেই দেয়া সম্ভব হয়নি। ওদেরকে আমরা একটা ফরেন কোচ দিতে পারিনি। বিকেএসপিতে একটা পিস্তলের ফরেন কোচ ছিল, সেখানে আমরা পিস্তল টিমটাকে একটা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলাম। উনি কিছুদিন ট্রেনিং দিয়েছেন। তো আমাদের যে সীমাবদ্ধতা আছে তার ভেতরেই আসলে আমরা আমাদের এই টিমটাকে রেডি করেছি। বাট তারপরও আমি ওদের যে প্রস্তুতি দেখেছি এবং যে পারফরম্যান্স দেখেছি, ইনশা আল্লাহ ওরা বেশ ভালোই করবে।’

এশিয়ান গেমসে পদক পেতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে শ্যুটারদের। তবে হাল না ছেড়ে ধাপে ধাপে এগোতে চান ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ব্যক্তিগত ও দলীয় ইভেন্টের প্রস্তুতি নেয়া শ্যুটার রবিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মেডেলের আশা/স্বপ্ন সবারই থাকে। কিন্তু আমরা ফার্স্টে চেষ্টা করি আমাদের বেস্ট এইটে ওঠার। কারণ শ্যুটিংয়ে বেস্ট এইট মানে টপ যে আটজন থাকে, ওই আটজনকে নিয়ে একটা ফাইনাল হয়। তো আমরা যদি ওইখানে ঢুকতে পারি, তারপর ফাইনাল তো লাখের ব্যাপার।’

নতুন কমিটি, নানা সীমাবদ্ধতা, নেই পর্যাপ্ত যোগানও। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে আসন্ন এশিয়ান গেমসে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী শ্যুটিং ফেডারেশন।

এসএস