কাতার বিশ্বকাপে জাপানের কাছে হেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার ঘটনা ফুটবল সমর্থকদের মনে এখনও জ্বলজ্বলে স্মৃতি। আর জার্মানদের কাছে দগদগে ক্ষতের।
আধুনিক ফুটবলের অন্যতম বড় চমকও এই ম্যাচটা। কিংবা আপসেটের। প্রথমার্ধে লিড নিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে জাপানিজ সামুরাইদের কাছে পরাস্ত হন থমাস মুলার, ম্যানুয়েল নয়্যাররা। হারের ক্ষত সামলে উঠতে না পেরে শেষ পর্যন্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় জার্মানিকে। ফুটবল বিশ্বকাপে এমন অঘটনের গল্প আছে আরও অনেক।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ইতালি, ইংল্যান্ড এবং উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলগুলোর সাথে একই গ্রুপে পড়েছিল কোস্টারিকা। সবাই ধরে নিয়েছিল তারা কেবল অংশগ্রহণ করতেই এসেছে। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে তারা প্রথমে উরুগুয়ে এবং পরে ইতালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয়। এই অভাবনীয় জয়ের ফলে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যায় এবং কোস্টারিকা গ্রুপ সেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়।
আরও পড়ুন:
২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা সেনেগাল। তবে ম্যাচের ৩০ মিনিটে পাপে বুবা দিওপের সেই ঐতিহাসিক গোল কাঁপিয়ে দেয় ফুটবল বিশ্বকে। সেনেগালের বিপক্ষে ১-০ এই হারটাই ফ্রান্সের জন্য এক দুঃস্বপ্নের সূচনা হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বজয়ের মুকুটধারী দলটি সেবার বাদ পড়ে যায় গ্রুপ পর্ব থেকেই।
ম্যারাডোনাদের কাঁদিয়ে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে আসা জার্মানি ছিল সেবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বুলগেরিয়ার মুখোমুখি হয়ে ম্যাথিউসের পেনাল্টিতে জার্মানি লিড নিলেও ম্যাচের শেষের নাটকীয়তা ছিল অবিশ্বাস্য। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয় দেশটি। বুলগেরিয়ার মতো একটি দলের কাছে জার্মানির বিদায় ছিল ফুটবল বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর।
১৯৫০ সালের ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচটিকে এখনও মনে করা হয় বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটন। ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড তখন অন্যতম ফেভারিট, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দলটি ছিল ডাকপিয়ন, লাশবাহী গাড়ির চালকদের মতো অপেশাদার খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া। দলটির হয়ে খেলতে নামা বাসন ধোয়ার কাজ করা জোসেফ গেটজেন্সই হয়ে ওঠেন সেই ম্যাচের অবিশ্বাস্য গল্পের নায়ক। তার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। এই খবরটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে, অনেক সংবাদপত্র শুরুতে ভেবেছিল এটি টাইপিং ভুল এবং ইংল্যান্ডই হয়তো ১০-১ গোলে জিতেছে।





