
গরিব মাশহাদি ছেলে থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei) ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader of Iran) হিসেবে প্রায় চার দশক পর্যন্ত দেশটির ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেছেন; তার মৃত্যু ঘটেছে বলে গত সপ্তাহে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম (Iran State Media) নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষের জন্য তিনি ছিলেন প্রতিরোধ ও ইসলামি বিপ্লবের প্রতীক (Symbol of Islamic Revolution); অন্যদিকে পশ্চিমা ও মিডল-ইস্ট পলিসি মেকারদের (Middle East Policy Makers) কাছে তিনি ছিলেন একটি কঠোর ও কৌশলগত শক্তি।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: যেভাবে হয়ে উঠলেন ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী
বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি (Governance system of Iran) বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা বা চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার (Supreme Leader) হাতে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের এই সর্বোচ্চ পদে আসীন রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei)।

দেশি-বিদেশি নানা চাপে নাজেহাল ইরান সরকার!
ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জেরে শুরু হওয়া চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, খামেনি প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দিকে লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর সারি, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি নানা চাপে নাজেহাল ইরান সরকার। তবে ইরানের এ আন্দোলন কোনো একক নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না। এমন কোনো সংগঠিত শক্তি নেই, যারা বর্তমান সরকারের বিকল্প হিসেবে সরকার গঠন করতে পারে। সরকারবিরোধী নেতৃত্ব অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও অনিশ্চিত।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংস্কারপন্থী মাসুদ পেজেশকিয়ানের জয়
প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈদ জালিলিকে সাড়ে ২৮ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইরানের নবম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইসলামী বিপ্লবের পর চতুর্থবারের মতো সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট পেলো দেশটি। পাঁচবারের এই আইনপ্রণেতার প্রতিশ্রুতি ছিল পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের। যদিও দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার ইরানে পেজেশকিয়ান কতটুকু সংস্কার আনতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দিহান আছেন বিশ্লেষকরা।