দেশি-বিদেশি নানা চাপে নাজেহাল ইরান সরকার!

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ | ছবি: আল জাজিরা
0

ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জেরে শুরু হওয়া চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, খামেনি প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দিকে লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর সারি, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি নানা চাপে নাজেহাল ইরান সরকার। তবে ইরানের এ আন্দোলন কোনো একক নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না। এমন কোনো সংগঠিত শক্তি নেই, যারা বর্তমান সরকারের বিকল্প হিসেবে সরকার গঠন করতে পারে। সরকারবিরোধী নেতৃত্ব অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও অনিশ্চিত।

ইরান সরকার দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধিতা কঠোরভাবে দমন করে আসছে। ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্টের ইতিহাস বলে, সম্মুখ সারির নেতারা, যেমন মির হোসেইন মুসাভি, মেহদি কাররুবি হয়েছেন গৃহবন্দি। এমন উদাহরণ রয়েছে আরও। ফলে বর্তমান আন্দোলনগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বদলে বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কভিত্তিক সংগঠনে নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে।

গেল কয়েক দিনের বিক্ষোভে সক্রিয় ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। চলমান আন্দোলন তুঙ্গে উঠতেই নেতৃত্ব দানের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে একে পোস্ট করছেন ভিডিও বার্তা। দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন এর মধ্যে।

রেজা পাহলভি, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব পূর্ববর্তী ইরানের শেষ রাজা শাহের পুত্র। তিনি গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চান। যদিও তার অনেক সমর্থক রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। ইরানি প্রবাসী সমাজে তার সমর্থন বেশি এবং ইরানের ভেতরেও সীমিত প্রতীকী সমর্থন রয়েছে। যদিও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, সাংগঠনিক ভিত্তি ও সুসংহত রাজনৈতিক কর্মসূচির অভাবের জন্যে সমালোচিত তিনি।

আরও পড়ুন:

পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন, একসময়কার বামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা রাজা শাহের বিরুদ্ধে ছিল। পরে ইরান–ইরাক যুদ্ধে ইরাকের পক্ষে অবস্থান নেয়। আর যে কারণে ইরানের ভেতরে তাদের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ২০০২ সালে ইরানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচিও প্রথম প্রকাশ করে গোষ্ঠীটি। যার নেতৃত্বে এখন মরিয়ম রাজাভি। যদিও ইরানের ভেতরে নেই তেমন কোনো সমর্থন।

সলিডারিটি ফর সেক্যুলার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক ইন ইরান। ২০২৩ সালে প্রবাসী কয়েকটি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ, মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যমে বিশ্বাসী জোটটি। ইরানের ভেতরে এর প্রভাব খুবই সীমিত।

পশ্চিম ইরানের কুর্দি ও পূর্ব ইরানের বালুচ অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ রয়েছে। এসব অঞ্চলের মানুষ বেশিরভাগই সুন্নি মুসলমান এবং রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত। বড় ধরনের জাতীয় বিক্ষোভে এসব অঞ্চলে আন্দোলন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও কোনো একক বা ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব নেই।

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। অধিকাংশ পরিচিত নেতা নির্বাসিত। ফলে দেশের ভেতরে সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা সীমিত। যার ফলে বর্তমান আন্দোলন মূলত নেতৃত্বহীন ও বিকেন্দ্রীভূত।

এসএস