পশু পালনে ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাবনার খামারিরা

পাবনা পশুর হাট
পাবনা পশুর হাট | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের কোরবানি পশুর একটা বড় অংশ সরবরাহ হয় পাবনা থেকে। গঠন-আকৃতি আর রঙের কারণে পাবনার গরুর চাহিদা সবসময়ই বেশি। এখানকার কোরবানির পশু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় হয়। তবে এবার পশু লালন পালনে অধিক খরচ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় সাধারণ খামারিরা। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, বাজার মনিটরিং ও মেডিকেল টিমের পাশাপাশি পশুর ন্যায্যমূল্য পাবে খামারিরা।

ঈদ উপলক্ষ্যে পাবনার পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। পরম যত্নে লালন-পালন করা কোরবানির পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হাট। হাটে প্রচুর গবাদিপশু, দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা হাট থেকে পশু ক্রয় করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

এবার হাটে দেশি জাতের ছোট ও বড় আকারের গরু বিক্রয় হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু উঠায় দাম নাগালের মধ্যেই বলে জানান ক্রেতা সাধারণেরা। তবে গবাদি পশু লালন পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা তুলনায় লাভ কম হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

একজন বিক্রেতা বলেন, ‘যেভাবে লাভ হওয়ার কথা সেভাবে লাভ হচ্ছে না। কারণ বাজারের তুলনায় খাদ্যের দাম বেশি, গরুর দাম অনেক কম।’

আরও পড়ুন

এদিকে হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ ভালো হওয়ায় স্বস্তিতে ক্রয় করছেন ক্রেতা সাধারণ। ক্রেতারা জানান, গত কয়েক হাটের থেকে বাজারে ভালো গরু পাওয়া যাচ্ছে।

হাট ইজারাদার বলছেন, হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গবাদি পশু সরবরাহ হওয়ায় বেচা বিক্রিও ভালো। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং সরকারি রেটে ইজারা নেয়া হচ্ছে।

পাবনা পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার আব্দুল সালাম বলেন, ‘এখানে অনিয়মের কিছু নাই। আমার পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুম আছে এবং বিভিন্ন প্রশাসন সাদা পোশাকে আছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে।’

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ২৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। খামারিরা পশুর ন্যায্য মূল্য পাবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশাবাদী জেলায় চাহিদা পূরণ করে গরু বাইরেও পাঠাতে পারবো। আমাদের খামারিরাও উজ্জীবিত। আশা করছি, তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় এবার ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ গবাদি পশুর লালন পালন হয়েছে। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ যার বাজার মূল্য এক হাজার কোটি টাকা।

জেআর