আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আখশিল্প। টানা কয়েক বছর লোকসানের মুখে পড়ে জেলার বহু কৃষক আখ চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর পর চলতি মৌসুমে সেই পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক নেফাউর রহমান। গত ১৫ বছর ধরে আখ চাষ করে আসছেন তিনি। চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে আখের আবাদ করেছেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে লোকসানের মুখে থাকলেও এবার দুই বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষক নেফাউর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় গুড়ের ওজন ভালো এবং দাম ও ভালো। আর গুড়ের দানাও ভালো হয়েছে।’
আরও পড়ুন: আমের মুকুলে সোনালী স্বপ্ন বুনছে রাজশাহী আম চাষীরা
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং আখে রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় এবার ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। মাঠভর্তি সবুজ আখ আর ভালো ফলনে চাষিদের মধ্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। চাষীরা বলছেন, গতকয়েক বছরে চেয়ে এ বছর গুড়ের দাম ভালো, এছাড়া মিষ্টিও খুব।
আধুনিক প্যাকেজিং ও মান নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি গুড়ের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। শহরকেন্দ্রিক বাজারের মানুষ স্বাদ ও স্বাস্থ্যগত কারণে চিনির বদলে প্রাকৃতিক গুড়ের দিকে ঝুঁকছে। এতে চাষিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গুড়কে বিভিন্ন প্রক্রিয়া বিক্রি করা হচ্ছে। আর চিনির মতো দানা করে ও বিক্রি করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
সংশ্লিটরা বলছেন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে গুড় তৈরি করা হচ্ছে চিনির বিকল্প হিসেবে। ফলে চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে আখ চাষীদের সব ধরনের সহায়তা ও প্রণোদনা দেয়ার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘অনেক সময় আমরা আমের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। আমে যে পরিমাণ লাভ হচ্ছে তার চেয়ে আখে বেশি লাভ হচ্ছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আগামীতে যেন আখ চাষীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।’
এদিকে, সাধারণত স্থানীয় বাজারে গুড়ের কেজি ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রক্রিয়াজাতকৃত পাউডার বা ঝোলা গুড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০–৪০০ টাকা পর্যন্ত।





