তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের নেতারা, তারেক মাসুদের বৃদ্ধা মা নুরুন্নাহার মাসুদসহ পরিবারের সদস্যরা।
পুত্রের স্মৃতিচারণ করে তারেক মাসুদের মা নুরুন্নাহার মাসুদ বলেন, ‘আমার মনে বড় কষ্ট। আমি চেয়েছিলাম তারেকের নামে গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর হবে। জাদুঘরটি আমি নিজ হাতে সাজাবো। এটাই আমার একমাত্র চাওয়া-পাওয়া। তার কিছুই হয়নি। সরকারের কাছে আর কিছুই চাই না। আমার তারেক খাইয়া না খাইয়া ছবি তৈরি করেছে।’
পরে তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও ভাঙ্গা সরকারি কাজী মাহবুব উল্লাহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোসায়েদ হোসেন ঢালীর সভাপতিত্বে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা বেনজীর আহমেদ, সরকারি কাজী মাহবুব উল্লাহ কলেজের শিক্ষক মো. সরোয়ার হোসেন, ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আবু বকর, ভাঙ্গা নাগরিক কমিটির সদস্য সুভাষ মন্ডল, তারেক মাসুদের ভাই সাঈদ মাসুদসহ অন্যরা।
তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মোসায়েদ হোসেন ঢালী বলেন, ‘তারেক মাসুদ যা চেয়েছিলেন, তার কোনোটিই আমরা পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিপরীতে বর্তমানে সংস্কৃতি জগতে গালিগালাজসহ নানা অপসংস্কৃতি জায়গা করে নিয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতারা যদি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার দিকনির্দেশক তারেক মাসুদের চিন্তা-চেতনাকে অনুসরণ করেন, তবেই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।’
তিনি ভাঙ্গা বিশ্বরোড গোলচত্বরের নামকরণ ‘তারেক মাসুদ চত্বর’ করার দাবি জানান।
বক্তারা জানান, তারেক মাসুদ শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তার সৃষ্টিশীলতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরের জোকা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুদসহ চারজন নিহত হন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ। তার নির্মিত ‘মাটির ময়না’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।





