তিন বছরে চারটি ব্যাচে মোট ৮০ জন তরুণ এ ফেলোশিপে অংশ নেবেন। প্রতি ব্যাচে থাকবেন ২০ জন। প্রতিটি ফেলোশিপের মেয়াদ ছয় মাস। প্রথম তিন মাসে থাকবে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, দলগত কাজ ও দক্ষতা উন্নয়ন। পরের তিন মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ বা বাস্তব কাজের সুযোগ দেয়া হবে।
‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড’-এর আওতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ একাডেমিক সহযোগী এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় যুক্ত রয়েছে।
ফেলোশিপের মাধ্যমে তরুণেরা সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, দলগত কাজ ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি, উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কাছ থেকেও তাঁরা পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা ছিল কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে তরুণ স্নাতকদের প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগদাতা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, ‘শুধু চাকরি খোঁজার মধ্যে তরুণদের সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সক্রিয় অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করাই এ ফেলোশিপের লক্ষ্য। তরুণরা যাতে বাস্তব অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করে কর্মক্ষেত্র ও সমাজে অর্থবহ অবদান রাখতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করা হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।’
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক পারভীন সুলতানা রাব্বি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগে তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও বেশি যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।’
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক করভি রাকশান্দ বলেন, ‘বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কাজের সুযোগ তরুণ ফেলোদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সক্ষমতা বাড়াবে।’
জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের পরিচালক ও আন্তর্জাতিক দলনেতা আদি ওয়াকার বলেন, ‘ফেলোদের পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত ও দক্ষতা উন্নয়নে নিবিড় পেশাগত বিকাশের সুযোগ দেওয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে কর্মসূচির একজন তরুণ ফেলো ইফরাত হোসাইন বলেন, ‘তরুণেরা অবদান রাখতে প্রস্তুত। তবে তাদের শেখার, অভিজ্ঞতা অর্জনের এবং নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ ও পর্যাপ্ত সুযোগ প্রয়োজন।’





