মেঘনার তীরে অপেক্ষমাণ সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার। কাছে গেলেই পাওয়া যায় জেলেদের দীর্ঘশ্বাস। আশ্রয় নেয়ার মতো কোনো খাল না থাকায় বছরের পর বছর নদীর তীরেই নৌযান বেঁধে রাখতে হয় তাদের। বৈরী আবহাওয়ার সময় নৌকা ও ট্রলার নষ্ট হওয়ার ভয়ে থাকেন তারা।
জেলেদের দাবি, তীরে বেঁধে রাখার কারণে অসংখ্য নৌকা ও ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিবছর। মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নৌকা মেরামতের খরচ বহন করতে গিয়ে ঋণের বোঝা বাড়ছে তাদের।
একজন জেলে বলেন, ‘এ খালগুলো যে ভূমিদস্যুরা ভরাট করে ফেলে। ভরাট করে ফেলার কারণে সিসি ব্লকের সঙ্গে নৌকাগুলি রাখা হচ্ছে। এ নৌকাগুলো একটু বাতাস হলেই নৌকাগুলো ভেঙে যাচ্ছে।’
শুধু জেলেরাই নন, খাল খননের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরাও। তাদের মতে, মেঘনা তীরঘেঁষে অন্তত ২ কিলোমিটার একটি খাল খনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে। হাজার হাজার একর কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়বে।
আরও পড়ুন
স্থানীয়রা জানান, ইলিশা চ্যানেলের যে খালটা আছে, খালটা দ্রুত খনন করার দাবি তাদের।
একটি খাল শুধু নৌযান রাখার নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, বরং দুর্যোগ মোকাবিলা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করে জেলার মৎস্য বিভাগ। আশ্বাস মিলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকেও।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এই যে নৌকা, জাল, তাদের যে সম্পদের নিরাপত্তার জন্য একটা খাল দরকার, শুধু এটা রাখার জন্য। আমি আমি এটার পক্ষে একমত এবং এটার জন্য আমি সরকারের কাছে যদি কেউ যদি আমার কাছে সহায়তা চায়, সুপারিশ চায়, আমি বলবো যে এটা করা উচিত।’
ভোলা-১ এর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, ‘যেসব খাল খনন প্রয়োজন এবং এখানে অবৈধ স্থাপনা আছে, সেগুলি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি চলমান রেখেছি। বোর্ড এবং মিনিস্ট্রি থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর পরই আমরা সেটা খালগুলো খনন এবং অবৈধ হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
দেশব্যাপী সরকারের পুরাতন খাল পুনঃখনন ও নতুন খাল খনন কর্মসূচি দেখে আশায় বুক বেঁধেছেন এই অঞ্চলের মানুষেরাও।




