চট্টগ্রামে বন্ধের শঙ্কায় শতাধিক পোশাক কারখানা, ঝুঁকিতে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

পোশাক কারখানা
পোশাক কারখানা | ছবি: সংগৃহীত
0

কমপ্লায়েন্সের শর্তের বেড়াজালে চট্টগ্রামে অস্তিত্ব সংকটে শতাধিক পোশাক কারখানা। এতে পোশাক রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক -কর্মচারী বেকার হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ সরকারের সহায়তা পেলে এসব কারখানা সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন- বিজিএমইএ।

২০১২ ও ২০১৩ সালে তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় চাপে পড়ে দেশের তৈরি পোশাকখাত। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের অনেক অযৌক্তিক শর্ত মেনে নেয় বিজিএমইএ। নিরাপদ কর্মপরিবেশের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কয়েক বছরে বন্ধ হয়ে যায় আট শতাধিক পোশাক কারখানা।

ওই সময় শেয়ার ও বাণিজ্যিক ভবনে স্থাপিত কারখানাগুলোকে বাঁচাতে ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের আওতায় অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংস্কারের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই কার্যক্রমে চট্টগ্রামের ১৯৩টি কারখানার কিছু অন্যত্র স্থানান্তর করে।

এ অবস্থায় অগ্নি নিরাপত্তাসহ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় মিলছে না ব্যাংক ঋণ ও ক্রয়াদেশ। ভুক্তভোগী মালিকরা বলছেন, সংস্কারের অনেক শর্তই ছোট ও মাঝারি পোশাক কারখানার জন্য প্রযোজ্য নয়। এ জন্য পৃথক নীতি ও আর্থিক সহায়তা চান তারা।

ফ্যাশন অব ওয়েলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রায় ১৯৫টি কারখানাকে তারা নজরদারিতে রেখেছে। এমনকি অধিদপ্তরের লাইসেন্স নবায়ন ও করতে পারছি না। ফলে আমরা কাজ পাচ্ছি না।’

কিছু কারখানা রপ্তানি করলেও অধিকাংশই সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করছে। কারখানাগুলো বন্ধ হলে রপ্তানি কমার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ শ্রমিক কর্মচারী বেকার হবে। গার্মেন্টগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ দেয়ার আহ্বান বিজিএমইএ নেতাদের।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী বলেন, ‘লাইসেন্স নবায়ন না হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে ফলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে।’

বিজিএমইএ’র পরিচালক মো. সাইফুল্লাহ মনসুর বলেন, ‘সব কারখানাই পোশাক রপ্তানি করছে। তাদেরকে যদি কোনো ভালো সুবিধা দেয়া যায় তাহলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

কর্তৃপক্ষ বলছেন, দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ নানা কারণে এসব পোশাক কারখানার লাইসেন্স নবায়ন করা যাচ্ছে না। সংকট নিরসনে বিজিএমইএ’র প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ কমিটি গঠন করা হবে।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘অনেক কারখানার নকশায় ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে। সে সব কারখানাগুলোকে সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

এক দশক আগেও চট্টগ্রামে গার্মেন্টস ছিলো প্রায় সাত শতাধিক। বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ৫০ শতাংশের বেশি কারখানা। বর্তমানে চালু আছে মাত্র তিনশ পোশাক কারখানা।

জেআর