স্থলপথে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম আখাউড়া স্থলবন্দর। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলছে এ বন্দর দিয়ে। প্রতিদিন রপ্তানি হয় হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, ভোজ্য তেলসহ হরেক পণ্য।
তবে প্রতিষ্ঠার পর নতুন করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বন্দরের। পৃথক স্থানে বন্দর ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চলে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে। এতে ভোগান্তিতে আমদানি-রপ্তানিকারকরা। শ্রমিকদের জন্য নেই বিশ্রামাগার।
সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যাত্রী পারাপারে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা।
বাণিজ্যে গতি আনা এবং যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, ট্রাক ইয়ার্ড, শ্রমিকদের বিশ্রামাগার ও গুদামসহ নানা অবকাঠামো।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমদানির যেই নিষেধাজ্ঞা আছে অনেকগুলো পণ্যের, আমরা চাই নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে আমাদের এই বন্দরের সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ করে দেয়া।’
২০২৮ সালের মধ্যেই সকল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হবে বলে আশা বন্দর কর্তৃপক্ষের। আর বাণিজ্য বাড়াতে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানিয়েছে শুল্ক বিভাগ।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ শাহির আহমেদ বলেন, ‘সকল কিছু রাখার যদি ফ্যাসিলিটিগুলো যদি প্রপারলি এখানে এস্টাবলিশড হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং যাত্রী পরিবহন সবকিছুই ফ্যাসিলিটিটেড হবে। আর আমাদের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমরা কিন্তু যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট আমাদের প্রয়োজন বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রয়োজন ব্যবসা-বাণিজ্যকে হেল্প করার জন্য, সেই ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট কিন্তু আমাদের আছে।’
আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, ‘রপ্তানির পরিমাণ কিন্তু খুব ভালো। রপ্তানি যেহেতু আমাদের সম্ভাবনাময় একটা বন্দর, এখান থেকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সময়ের দাবি ছিলো যে এখানে বন্দরের অবকাঠামোগত বিভিন্ন রকমের ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজনের জন্য তারা বিভিন্ন সময় দাবি করেছিল। অবকাঠামোগুলো যদি কাজ হয়, তাহলে আশা করা যায় আমদানি এবং রপ্তানি দুইটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।’
১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়। এরপর ২০০৮ সালে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় আখাউড়া স্থলবন্দর।





