Recent event

আবহাওয়ার পরিবর্তনে বাড়ছে শিশুদের রোগের প্রকোপ

ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল
ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল | ছবি: এখন টিভি
0

আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে শিশুদের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি সংখ্যক শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক হওয়া জরুরি।

মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিশুদের অসুস্থতা। হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীদের ভিড়। ফরিদপুরের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর শিশুর রোগীর উপস্থিতি। অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন তার প্রিয় সন্তানটিকে নিয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিরিয়ালের জন্য।

এই হাসপাতালটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আক্কাস মণ্ডল জানান, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী আসছে শুধু আউটডোরে । এরপরে ইনডোরে হাসপাতালটির সিটের সংকট রয়েছে প্রতিদিন।

চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়ার তাপমাত্রা ওঠানামা, ধুলাবালি ও ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সহজেই তারা সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নিরঞ্জন কুমার দাস বলেন, এই সময়ে শিশুদের ঠাণ্ডা লাগা, কাশি, জ্বর বেশি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসছে। তাই শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক পরানো, পরিষ্কার পানি পান করানো এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

হাসপাতালে আসা অভিভাবকরা জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের পর থেকেই বাচ্চার জ্বর আর কাশি হচ্ছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয়েছে। তবে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, সচেতনতা বাড়ানো গেলে মৌসুমি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।

তিনি বলেন, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে কমানো সম্ভব রোগের ঝুঁকি। তিনি জানান, সরকারিভাবে জেলার সকল হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক এবং ওষুধের কোন ঘাটতি নেই।

শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের সচেতন থাকার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইএ