টাঙ্গাইলের কালিহাতীর দেউপুর গ্রামের রং মিস্ত্রি রুবেল। ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ফাতেমা নামে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে গত ১৬ নভেম্বর সৌদি আরব যান তিনি। কিন্তু দেড় মাসের বেশি সময় কোনো কাজ জুটেনি রুবেলের। গত ৮ জানুয়ারি মারা যায় রুবেল। অভিযোগ- অনাহারে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।
রুবেলের পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে চাকরি পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে কাজের ভিসার বদলে কথিত ফ্রি ভিসায় রুবেলকে সৌদিতে পাঠায় দালাল ফাতেমা। ভিসার শ্রেণির কারণে কাজ জোগাড় করতে পারেনি সে।
রুবেলের স্ত্রী বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার পর অনেকে বলেন, তুমি জানো না। এ ফাতেমা এভাবে লোক এনে কাজ দেয় না। আর কাজ না পেয়ে বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে ধরা পরতে হয়।’
আরও পড়ুন:
রুবেলের বাবা জানালেন সংসারে অভাব অনটনের কথা। ঋণের টাকা পরিশোধেও অক্ষম তিনি। লুৎফর রহমানের বাবা বলেন, ‘খাবার দেয়নি এবং খোঁজও নেয়নি। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করবো কেমন করে আর পরিবারই বা চালাবো কেমন করে।’
অভাব অনটনে থাকা রুবেলের পরিবারের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল ও টাকা তুলছেন এলাকাবাসী। ফাতেমা দালালের নামে তারাও তুলছেন নানা অভিযোগ।
এলাকাবাসীরা জানান, অনেক টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ গেছে। এ টাকা পরিশোধ করবে এখন কেমন করে পরিবার। আর এ ফাতেমা দালালকে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেন তারা।
এদিকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে এবং বাড়িতে গিয়েও অভিযুক্ত ফাতেমাকে পাওয়া যায়নি।
ফাতেমার শ্বাশুড়ি সালেহা বেগম বলেন, ‘ফাতেমার এখন কোনো খবর আমার কাছে নাই। তা ছাড়া সে ১৫ দিন আগে বাড়ি থেকে চলে গেছে।’
রুবেলের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের।
টাঙ্গাইল প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক কাজী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘দালালে দায়িত্ব হলো কাজ পেতে সাহায্য করা। যদি তা না করে তাহলে সে তার দায়িত্ব পালন করেনি। আমরা তার মরদেহ আনার ব্যবস্থা করবো। আর তার আবেদন পত্র ১৯ তারিখে পাঠানো হয়েছে।’





