চার দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে পারে এ কারখানা। যদিও প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে উৎপাদন ক্ষমতা ছিলো আরও বেশি।
গত বছরের পহেলা মার্চ গ্যাস সরবরাহ না দেয়ায় এ কারখানা থেকে বন্ধ হয় সার উৎপাদন। এতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে গিয়ে অর্থ সংকটে পড়েছে দেশের পুরনো এ সার কারখানা।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘জিয়া সার কারখানা’ থেকে নাম পরিবর্তন করে ‘আশুগঞ্জ সার কারখানা’ করার পর গ্যাস রেশনিংয়ের নামে বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। ফলে পুরোদমে উৎপাদন চালু রাখতে না পারায় লোকাসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় কারখানাটি।
আরও পড়ুন:
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে সারের দাম। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত দেশের বন্ধ সার কারখানাগুলো চালুর দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যদি সার আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটে তাহলে দেশেরে কৃষিখাত ও সমস্যার মুখে পরবে।’
বন্ধ কারখানার উৎপাদন কবে চালু হবে- সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও, আশুগঞ্জে সরকারের নতুন আরেকটি সার কারখানা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কারখানা কর্তৃপক্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘নতুন একটি সার কারখানা তৈরি জন্য আলোচনা হয়েছে। যত দিন না নতুন একটি তৈরি হচ্ছে, ততদিন এটা চালুরাখার জন্য বলা হয়েছে।’
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়ায় গেল কয়েক বছর ধরে সার উৎপাদনে বিসিআইসির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না আশুগঞ্জ সার কারখানা। পুরোদমে সার উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন কারখানাটির।





