চট্টগ্রামে অপরিকল্পিত শিল্পায়নে নিরাপদ পানির সংকট; বিপাকে অন্তত ৫০ গ্রামের মানুষ

ওয়াটার প্লান্ট
ওয়াটার প্লান্ট | ছবি: এখন টিভি
0

শহর ছাড়িয়ে চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করেছে সুপেয় পানির সংকট। সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, কর্ণফুলী ও পটিয়াসহ অন্তত ৫০ গ্রামের মানুষ পড়েছেন ভয়াবহ পানির সংকটে। কোথাও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট গভীরেও মিলছে না নিরাপদ পানি। অপরিকল্পিত শিল্পায়নকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

এক সময়ের তিন ফসলি জমি, এখন তার পাশেই গড়ে উঠেছে বিশাল শিল্প কারখানা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে মীরসরাই এলেই চোখে পড়ে এমন অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের সারি। শুধু এ উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় ৫০টির মতো কারখানা।

৩০ হাজার একরজুড়ে দেশের বৃহৎ শিল্পাঞ্চল থাকলেও, এর বাইরে যত্রতত্র গড়ে উঠছে নতুন নতুন কারখানা। এতে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি, আর হুমকিতে পড়ছে প্রাকৃতিক পানি উৎস।

সীতাকুণ্ড—শিল্পায়নের পুরনো কেন্দ্র। এখানে রয়েছে অন্তত ৫০০ শিল্প কারখানা আর জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড। শিল্পের চাপে হারিয়ে গেছে সুপেয় পানির উৎস। শহরের কাছাকাছি এ দুই উপজেলায় ৩০ থেকে ৪০টি গ্রাম এখন তীব্র পানি সংকটে।

আরও পড়ুন:

সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নে দেখা যায় ছোট ছোট কুয়ো। নিরাপদ পানির অভাবে দূষিত পানি দিয়েই চলছে দৈনন্দিন জীবন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বাড়ি বাড়ি বসানো হচ্ছে গভীর নলকূপ। কিন্তু ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট নিচেও মিলছে না সুপেয় পানি।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘আগে ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে গেলেই পানি পাওয়া যেত। আর এখনতো ৬০০ থেকে ৭০০ নিচেও পানি পাওয়া যায় না।’

শুধু খাবার পানি নয়, সংকট দেখা দিয়েছে সেচের পানিতেও। পাহাড়ি ছড়া শুকিয়ে গেছে, দখল আর দূষণে, মৃতপ্রায় খাল-বিল। শিল্প কারখানার পানির চাহিদা মেটাতে কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক প্রবাহ। হুমকিতে কৃষি আর জীববৈচিত্র্য। কয়েক বছর যাবৎ পানির অভাবে কোনো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয়রা।

পানি সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে জলবায়ু পরিবর্তন। হালদা নদীতে লবণাক্ততা বাড়ায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পানি উত্তোলন বন্ধ রাখতে হচ্ছে ওয়াসাকে। নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি লিটার পানির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘আশা করা যায় আগামীতে আমরা গ্রাহকদেরকে পর্যাপ্তভাবে পানি দিতে পারবো।’

কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী পটিয়া ও আনোয়ারাতেও একই চিত্র। অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে এসব এলাকাকে পানি সংকটাপন্ন ঘোষণা করেছে সরকার। অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ নিত্য ব্যবহার ও কৃষিকাজে পানির অভাবে ভুগছেন।

চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলে পানি সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এখনই কার্যকর পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ না আনলে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও গভীর হবে— এমনটাই আশঙ্কা স্থানীয়দের।

জেআর