শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বান্দরবানে সাংগ্রাই উৎসব শুরু

বান্দরবানে শোভাযাত্রার আয়োজন
বান্দরবানে শোভাযাত্রার আয়োজন | ছবি: এখন টিভি
0

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রতিবছর ১৩ এপ্রিল এই উৎসব উদযাপন করে মারমারা।

আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু।

বক্তব্য তিনি বলেন, ‘বান্দরবানসহ পার্বত্য তিন জেলার ১১টি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বাংলাদেশের সামগ্রিক সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বান্দরবানসহ পার্বত্য তিন জেলার ১১টি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বাংলাদেশের সামগ্রিক সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।’

এ সময় মারমা, চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, ত্রিপুরাসহ বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের আদিবাসী নারী-পুরুষরা নিজস্ব বিভিন্ন পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী পরিচ্ছদ নিয়ে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করে। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বয়স্ক পূজার আয়োজন করা হয়।

নতুন বছরকে বরণ এবং পুরাতন বছর বিদায়কে ঘিরে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি স্বত্বাসমূহ নিজস্ব সামাজিক ঐতিহ্য নিয়ে সমন্বিতভাবে সাংগ্রাই উৎসব পালন করে থাকে।

আরও পড়ুন:

বান্দরবানে মারমাদের সাংগ্রাই এর মূল আকর্ষণ জলকেলি উৎসব। সব পাপাচার ও গ্লানি ধুয়ে মুছে নিতে তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানো উৎসবে মেতে উঠে। পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের জন্য মূলত এই উৎসব।

সাংগ্রাই উৎসবটিকে দেখার জন্য বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বহু পর্যটকের আগমন ঘটে।

তবে বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের লোকজনের সংখ্যা বেশি হওয়াতে সাংগ্রাইয়ের নানা অনুষ্ঠানগুলো ব্যাপক ঝাঁকজমকভাবে পালন করা হয়।

এবার উৎসব উদযাপন কমিটি তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক থুই মং প্রু মারমা। তিনি জানান, রোববার সকাল ৭টায় ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠ থেকে সাংগ্রাই বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাইয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু। তিন দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসবে রয়েছে, সমবেত প্রার্থনা, বৌদ্ধ মন্দিরে মন্দিরে ভান্তে (ধর্মীয় গুরুদের খাবার দান) সোয়াইং দান, তিন দিনব্যাপী জলকেলি উৎসব, পিঠা তৈরি, বৌদ্ধ মূর্তি স্নান, হাজারো প্রদীপ প্রজ্বলন, বয়স্ক পূজা এবং সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-গান নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

সাংগ্রাইয়ের অন্যতম মূল আকর্ষণ জলকেলি উৎসব (পানি খেলা)। যুবক-যুবতীরা একে অপরের প্রতি পানি বর্ষণ করে। পানিকে পবিত্রতার প্রতীক মেনে মারমা তরুণ-তরুণীরা পানি ছিটিয়ে নিজেদের শুদ্ধ করে নেন। পাহাড়ের প্রতিটি পল্লীতে আয়োজন করা হচ্ছে জলকেলি উৎসবের। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ এই খেলায় মেতে উঠেন।

এদিকে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী বর্ষ বিদায় ও বরণের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবের আদি অনুষ্ঠানমালা দেখতে এরই মধ্যে বান্দরবানে আসতে শুরু করেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। হোটেল-মোটেল ও কটেজগুলো অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলার মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

এফএস