সিটি করপোরেশন অস্থায়ীভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও এতে সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং ভোগান্তি আরও বেড়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন, পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনও চলাচল করে।
গত বর্ষা মৌসুমেও সড়কটি ভাঙা ছিল। আবারও বর্ষা ঘনিয়ে এলেও সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গত ১৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সড়কটির সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসগর হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। তবে উদ্বোধনের ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, সংস্কার কাজের প্রস্তুতি হিসেবে ইট ও এক্সকেভেটর আনা হয়েছে এবং ইট ভাঙার কাজ চলছে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘পুরো ভাঙা অংশ তুলে নতুন করে কাজ করতে হবে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত জ্বালানি সংকটের কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে বিলম্ব হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই কাজ শুরু হবে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি পল্লিতে সড়ক ও ড্রেন উন্নয়ন কাজ, খানপুর হাসপাতাল থেকে আইইটি স্কুল পর্যন্ত সড়কটির আরসিসি ড্রেন ও ফুটপাত সংস্কার এবং ২ নম্বর রেলগেট থেকে দেওভোগ নাগবাড়ি পর্যন্ত ড্রেনসহ সড়ক সংস্কারের এই তিনিটি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক।
প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ চুক্তি অনুযায়ী গত ১১ মার্চ শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ২০২৭ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে।
আরও পড়ুন:
প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসইপিএলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন, ‘আমরা চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সড়কের বর্তমান পিচ তুলে ফেলতে এক্সকেভেটর দরকার, যার জন্য প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। অথচ পাম্প থেকে ৩০ লিটারের বেশি জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি সিটি করপোরেশন প্রশাসককে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এদিকে গত ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার টাকা করে এক্সকেভেটরের ভাড়া গুনতে হচ্ছে, কাজ না করেও।’
তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, প্রাথমিকভাবে ইট ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে সড়কটির দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে জনভোগান্তি লাঘবের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





