অবকাঠামো সংকটে আশুগঞ্জে ধানের মোকাম: ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা

আশুগঞ্জে ধানের মোকাম
আশুগঞ্জে ধানের মোকাম | ছবি: এখন টিভি
0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি আশুগঞ্জ ধানের মোকামে। ধান ওঠানামার জন্য নেই জেটি সুবিধা। এছাড়া আবাসন সুবিধা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের। শ্রমিকদের জন্য নেই বিশ্রামাগার। এ অবস্থায় পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই ধানের বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবি ব্যবসায়ীদের।

মেঘনার ভিওসি ঘাটে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের হাঁক। এরপর বিকেল পর্যন্ত ধান বেচা-কেনা। মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ মণ ধান বেচাকেনা হয় দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই হাটে।

মোকামে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকশ শ্রমিকের। এছাড়া মোকাম ঘিরেই গড়ে উঠেছে প্রায় আড়াইশো চালকল। যেগুলোতে কাজ করছেন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক। আর চালকলগুলো থেকে প্রতিদিন বাজারজাত হচ্ছে অন্তত ১০ কোটি টাকার চাল।

ধানের মোকাম স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করলেও এখানে নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। জেটি না থাকায় নৌকা থেকে ধান উঠানামা এবং ঝড়ের সময় ধানবোঝাই নৌকা রাখা নিয়ে বেগ পেতে হয়। আবাসন সুবিধা না থাকায় নৌকাতেই রাত কাটায় হাওর থেকে ধান নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা।

শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঝড় তুফান হলে নৌকা যে সেভ করা হবে সেরকম কোনো পরিবেশ এখানে নেই। যে আড়তদারদের কাছে ধান বিক্রি করা হয়, তাদের নিজস্ব ঘর আছে। প্রতি নৌকাতে ১০০০ থেকে ২০০০-২৫০০ টাকা নেয় তারা। এ জায়গায় একটি বড় জেটি করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

পর্যাপ্ত জেটিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ হলে মোকাম সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতি আরও গতি পাবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ শিল্প ও ও বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন ইপটি বলেন, ‘৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ধান আমরা হাওর অঞ্চল, বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে সংগ্রহ করি। তাই সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যাতে দ্রুত জেটিসহ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নগুলো সমাধান করে দেয়া হয়।’

মোকাম সম্প্রসারণ এবং শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের যারা ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদের সাথে আমরা মতবিনিময় করবো এবং তাদের যে সকল বিষয় দরকার সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

হাওরাঞ্চলের অন্তত ৭ জেলার কৃষকের ধান মোকামে এনে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এখানে পাওয়া যায় বিআর-২৮, ২৯ ও মোটা জাতের ধান।

ইএ