উজানের পানিতে ডুবছে চলনবিলের বোরো ধান: হতাশায় হাজারো কৃষক

ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক
ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক | ছবি: এখন টিভি
0

অসময়ে উজানের পানিতে চলনবিলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে নষ্ট হয়েছে অন্তত ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান। পানি বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত ডুবছে বিলের বোরো ধান। শ্রমিক সংকটে বিলের অনেক ধান এখনও জমিতেই পড়ে রয়েছে। একজন শ্রমিকের মজুরি দিনে ১২শ' থেকে ১৫শ' টাকা পর্যন্ত। এ অবস্থায় চরম হতাশায় বিলের হাজারো কৃষক। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকরা করে প্রণোদনার কথা বলছে স্থানীয় প্রশাসন।

উত্তরের শস্য ভাণ্ডারখ্যাত বিস্তীর্ণ চলনবিল। পাখির চোখে ধরা পড়ছে ফসল নষ্টের করুণ চিত্র। সোনালী ধান ডুবে থাকার এমন দৃশ্যে মন ভাঙে কৃষকের। নুয়ে পড়া ধানের ওপর হাঁটু-থেকে কোমর সমান পানি। পুরোটা নষ্ট হওয়ার আগেই মাঠের ধান গোলায় তোলার প্রাণপণ চেষ্টা কৃষকের।

উজানের ঢলে চলন বিলের হুলহুলিয়া, সারদা নগর, রাখালগাছা, বজরাহার, ডাহিয়া, বেড়াবাড়ি, কাউয়াটিকরিসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত। চোখের সামনে কষ্টের ফসল নষ্টে আশাহত হাজারো কৃষক। উৎপাদনের খরচের বোঝা মাথায় নিয়ে পার করছেন প্রতিটি দিন।

কৃষকরা জানান, যারা গৃহস্থ তাদের ধান রেখে তারা চলে গেছে। অনেকে কান্নাকাটি করছেন। খেরের পালা ডুবে গেছে। আরও সাত বিঘা জমি কাটাই হয়নি, লোকই পাওয়া যায় নি।

আরও পড়ুন:

প্রতিবছর এই সময়ে চলন বিলে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার শ্রমিক ধান কাটতে যান। তবে, এ বছর চিত্র উল্টো। শ্রমিক সংকটের কারণে এখনও চলনবিলে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার বিঘা জমির বোরো ধান। ডুবে যাওয়া ধান মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে বন্যা হয়েছে, বন্যা হয়ে বিলের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ছে। সেই সময় লোকজন কাজে গেছে, লোক পাওয়া যায়নি। এই কারণে শ্রমিক ঘাটতি।

এ বছর চলনবিল অঞ্চলে ৩৬হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত বিল অঞ্চলে ৭৫ শতাংশ জমির বোরো ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকরা করে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসার কথা বলছে স্থানীয় প্রশাসন।

নাটোরের সিংড়ার উপজেলা কৃষি অফিসার খন্দকার ফরিদ বলেন, ‘যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের একটা তালিকা করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো, যাতে করে আগামী প্রণোদনা বা পুনর্বাসন কর্মসূচির মধ্যে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া যায়।’

নাটোরের সিংড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘যেহেতু সবাই এখন ধান কাটায় ব্যস্ত, সেহেতু প্রণোদনার এই কাজে আমরা তাদের ব্যস্ত রাখতে চাইনি। কিন্তু আমাদের যে তালিকা, তালিকার কার্যক্রম আমাদের চলমান। আমরা ঈদের আগেই হয়তো তাদেরকে আমাদের যে সরকারি প্রণোদনা সেটা প্রদান করবো।’

হাওরের কৃষকদের মতো বিপর্যস্ত চলনবিলের কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ প্রণোদনার দাবি চলনবিল অঞ্চলের কৃষকদের।

ইএ