নারায়ণগঞ্জে অগ্নিদগ্ধে নিহত একই পরিবারের ৫ জনের পটুয়াখালীতে দাফন সম্পন্ন

জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে
জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে | ছবি: সংগৃহীত
0

পটুয়াখালীর বাউফল থেকে স্ব পরিবারে ঢাকার নারায়নগঞ্জে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয় সবজি বিক্রেতা আবুল কালামসহ স্ত্রী ও তিন পুত্র, কন্যা। আজ (শনিবার, ১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চার সদস্যের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে শোকাবহ পরিবেশে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গত রোববার (৩ মে) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয় কালামের পরিবারের পাঁচ সদস্যে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শুক্রবার সকালে গৃহবধূ সায়মা বেগমের (৩৫) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবারের শেষ সদস্যরও মৃত্যু হয়।

গত সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান পরিবারের কর্তা আবুল কালাম। তাকে সেদিনই গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এরপর একে একে মৃত্যু তাদের তিন সন্তানের। বুধবার মেয়ে কথা (০৪), বৃহস্পতিবার সকালে ছেলে মুন্না (০৭) এবং বিকেলে মেয়ে মুন্নি (১০)। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে স্ত্রী সায়মা বেগমের মৃত্যুর মাধ্যমে একটি স্বপ্নবাজ পরিবার সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুন:

অভাবের কারণে ওই পরিবারের চারজনের মরদেহ হাসপাতালের হিমাগার থেকে বাড়িতে আনার টাকাও ছিল না এ পরিবারের। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

পুরো পরিবারটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে আজ আপন বলতে কেউ নেই, তাই প্রতিবেশীদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাউফলের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আকাশ-বাতাস।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। আর যেন কোনো পরিবারকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়। এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি।

এফএস