পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে মেয়ের জামাই সুরুজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ষাঁড় গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে গাবতলী পশুর হাটে যান মুজাম বিশ্বাস। গরুটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিক্রির টাকা অন্যের মাধ্যমে আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে রাত ১টার দিকে শ্বশুর-জামাই স্থানীয় বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
অভিযোগ রয়েছে, পথে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের চেতনানাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। পরদিন গাজীপুর এলাকা থেকে সুরুজ আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও মুজাম বিশ্বাসের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্বজনরা জানান, নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে আশুলিয়ার নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুজাম বিশ্বাসের ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে পরিচিতজনদের নজরে আসে বিষয়টি। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।
জানা গেছে, এক ভ্যানচালক আশুলিয়ার একটি সড়কের পাশে মুজাম বিশ্বাসকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শুক্রবার দুপুরে তার জ্ঞান ফিরলেও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়। এছাড়া তার ডান পায়ে আঘাত রয়েছে, যার কারণে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও কষ্ট হচ্ছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। শনিবার সকালে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনো তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না এবং অনেককেই ঠিকমতো চিনতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
মুজাম বিশ্বাসের ছেলে মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।’
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা ও দেখভাল চলছে।’





