দিনব্যাপী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিকের পণ্য দিয়ে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে।
আয়োজক কমিটি জানান, নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে তার বিনিময়ে খাদ্যপণ্য দেয়া হচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য কমছে, অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
এক কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি চাল, পাঁচ কেজি প্লাস্টিকে এক লিটার সয়াবিন তেল, তিন কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি চিনি, তিন কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি প্লাস্টিকে একটি টি শার্ট, দুই কেজি প্লাস্টিকে এক প্যাকেট বিস্কুট, চার কেজি প্লাস্টিকে দুই কেজি আটা, দুই কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি ছোলা, এক কেজি প্লাস্টিকে পাঁচটি ডিম, এক কেজি প্লাস্টিকে দুইটি লুডলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়।
অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুসমিতা আক্তার জানায়, তারা টাকার বিনিময়ে খাদ্য সামগ্রী দেয়। তবে তাদের স্কুল মাঠে প্লাস্টিক বর্জ্যরে বিপরীতে খাদ্য সামগ্রী পেয়ে তারা অনেক খুশি।
আরও পড়ুন:
মির্জাপুর সরকারি এসকে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্লাস্টিক মাটি, পরিবেশসহ সব দিকের ক্ষতি করে থাকে। প্লাস্টিক বর্জ্যে আমাদের জমি জমা মাঠ ভরে থাকে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেতের ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।’
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সারা বিশ্বেই পরিবেশগত সমস্যার প্রথম সাড়িতে রয়েছে প্লাস্টিক দূষণ। জলজ থেকে শুরু প্রাণ প্রকৃতি ও মানব সভ্যতার হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ প্লাস্টিক। প্লাস্টিক দূষণ রোধে বিদ্যানন্দ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সেই আইডিয়া থেকে জনসচেতনায় ও জনসম্পৃক্ততায় প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। আমাদের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম খুবই দুর্বল।’
তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া দূষণরোধ করা সম্ভব নয়। সেই চিন্তা চেতনা থেকে প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা সারা দেশে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন প্লাস্টিক রিসাইক্লিনিং করেছি। এসব কাজে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ রোধে প্রান্তিক পর্যায়ে মাইকিং করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষদের দূষণের ক্ষতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।’





