পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার সামনে অবস্থিত ১ হাজার ৫০ মিটারের এই সড়কটির দুই পাশে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। ফলে জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার অসুস্থ রোগী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩১ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করে। কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প দিনেই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই প্রতিষ্ঠানকে আবার ২১ লাখ ২৯ হাজার ৪২১ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কাজ দেওয়া হয়।
সেই কাজও বছর না ঘুরতেই নষ্ট হয়ে গেলে একই অর্থবছরে মেসার্স রহিম অ্যান্ড সন্স নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ২০ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে পুনরায় কার্পেটিং করে। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয়ে শারমিন ডেইরি অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ সড়কটি আবার সংস্কার করে।
চলতি ২০২৬ সালের নতুন অর্থবছরে এক কিলোমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির সংস্কার ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে করা হয় ৭৫ লাখ টাকা। তিনটি ভিন্ন প্যাকেজে ভাগ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, মেসার্স রুবেল ট্রেডিং করপোরেশন ও মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সকে কাজ দেয়া হয়।
আরও পড়ুন:
এর মধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যয়ে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক ও ২০৪ মিটার সিলকোটের কাজ পায়। অভিযোগ উঠেছে, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স রাতের আঁধারে চরম মানহীন বিটুমিন ব্যবহার করে কাজ শেষ করে। যার ফলে গত ৩ জুলাই কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় পুরো সড়কের পিচ উঠে যায়।
মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা রুবেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি সড়ক প্রতি বছর সংস্কার করার নামে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মুমূর্ষু রোগী যাতায়াত করে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।’
হাতিয়া থেকে মাইজদীতে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাই জানান, বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়কে সংস্কার কাজ চলতে দেখি। কিন্তু কখনোই সড়কটি পরিপূর্ণ চলাচলের উপযোগী পাই না।
জানতে চাইলে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হানিফ নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, ‘কাজটি টেন্ডারে আমি পেলেও অন্য এক পার্টিকে দিয়ে করাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আমরা সেগুলো আবার ঠিক করে দেব।’
নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহম্মেদ খাঁন বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ ওঠা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে লিখিত চিঠি দিয়েছি। কাজটি দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিঠির উত্তরে তারা কাজটি আবার করে দেবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’



 specialises in using seismological data to track nuclear tests-320x167.webp)

