মেলান্দহ উপজেলার ৫৫ বছর বয়সী কৃষক মুসা ফারাজী, দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসের শিকার তার পরিবার। এরই মধ্যে একাধিকবার বসতভিটাসহ ২৫ বিঘা ফসলি জমি নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে নদের পানি বাড়ায় আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার। তার মতো এমন অনেক পরিবার নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।
মুসা ফারাজী বলেন, ‘২৫ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এখন আর দুই-তিন বিঘা জমি আছে, বাড়িঘর নিয়ে যেখানে আছি, সেখান থেকেও এ বছর চলে যাবো। তারপর কোথায় থাকবো, কী করবো তা জানি না।’
আরও পড়ুন
চলতি বর্ষা মৌসুমে জামালপুরের সাত উপজেলার প্রতিদিনই ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী বেশ কয়েকটি এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে বাড়ি ঘর, ফসলের মাঠ আর গোয়ালঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মেলান্দহ উপজেলার টুপকার চরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুই তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনের ভয়ে আতঙ্কে আছে বলে জানান তারা।
ব্রহ্মপুত্র নদের টুপকার চরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তুতি চলছে। বৃষ্টি ও ঢলের কারণে নদীর পাড়ে কোনো সমস্যা যাতে না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। এছাড়াও টুপকার চরের ভাঙন রোধে ৩০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে ।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন ভাঙন এরিয়াতে আমরা ১২০ মিটার ওয়াশডেই জরুরি আপৎকালীন কাজ গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি মেইন যে পাড় ব্রহ্মপুত্রের, সেখানেও ভাঙন রয়েছে টুপকার চর এরিয়াতে সেই সব ভাঙন আমাদের অবজারভেশনে আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে আমাদের অনুন্নয়ন রাজস্ব বাজেট বা কোনো অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় এখানে পার্মানেন্ট প্রোটেকশনের দিকে যাব।’
নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়াসহ সড়কের পাশে দু’চালা করে আশ্রয় নিয়েছে অনেকেই। এছাড়া ফসলি জমি হারিয়ে কাজ না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারগুলো।





