বন্যার পানি নামলেও বান্দরবানে সড়ক যোগাযোগে ভয়াবহ বিপর্যয়

বান্দরবানে ভাঙা সড়ক
বান্দরবানে ভাঙা সড়ক | ছবি: এখন টিভি
0

ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে গেলেও বান্দরবানে রয়ে গেছে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও ধসে পড়েছে পুরো সড়ক। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে প্রয়োজন শত কোটি টাকার বেশি।

টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত। জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়ক কোথাও ভেঙে গেছে, আবার কোথাও ধসে গেছে বড় অংশ। সড়কের নিচের মাটি সরে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়কগুলো। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তথ্যমতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ২৫ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ২১ কোটি টাকা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬৫ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৭২ কোটি টাকা এবং এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য সেতু ও কালভার্ট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বান্দরবান যাতায়াতের সড়ক অনেক রাস্তাঘাট অনেক ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে গেছে। আট-নয় দিন পর্যন্ত যখন বৃষ্টি হচ্ছে, তখন রাস্তা ভেঙে গেছে। আমাদের যাতায়াত করতে কষ্ট হয়।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন বলেন, ‘যেকোনো একটা মোটরসাইকেল আসলে ক্রসিং করতে আমাদের সমস্যা হয় এখানে। সামান্য একটা দুইটা টমটম সাইড দিতেও পারে না—জায়গা নাই।’

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘প্রাক্কলন রেডি হলে পরে আমরা ঢাকায় বরাদ্দের জন্য পাঠাবো। বরাদ্দ পেলে তারপর আমরা মেইনটেনেন্সের কাজ শুরু করবো।’

আরও পড়ুন:

বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, ‘৫১টি রাস্তায় বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে কালভার্ট, রিটেইনিং ওয়্যাল, ব্লক রিটেইনিং ওয়্যাল এবং প্রটেক্টিভ অনেকগুলো ছিল। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে ভূমিধসে হয়ে রাস্তার ওপর চলে আসছে, তারপরে যান চলাচলের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।’

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই স্বল্পমেয়াদে আমাদের এই সড়কের নেটওয়ার্কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আমরা যে অ্যাসেসমেন্টটি দিয়েছি, সে অ্যাসেসমেন্টটি হচ্ছে স্বল্পমেয়াদে আমাদের প্রায় ১৪ কোটি টাকা প্রয়োজন।’

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বান্দরবানের আওতাধীন আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে অন্তত ১৩৩ কোটি টাকার প্রয়োজন। দ্রুত বরাদ্দ ও সংস্কার শুরু না হলে দুর্গম এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এসএস