সিলেটের গ্রাম থেকে শহর—চারদিকে চোখে পড়ে প্রবাসীদের অর্থে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। নকশা আর কারুকার্যে এসব বাড়ি যেন একেকটি প্রাসাদ। সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এমন শত শত বাড়ি। প্রতিটি বাড়ি বানাতে খরচ হয়েছে কোটি কোটি টাকা। তবে বছরের অধিকাংশ সময়ই এসব বাড়ি থাকে তালাবদ্ধ।
প্রবাসীরা বলছেন, সিলেটে শিল্প খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে নানা বাধা। সরকারি নিয়মনীতি, অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের কারণে অনেকেই শিল্পে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী তারেক বলেন, ‘আমি একটা ব্যবসা করতে যাব, সেটার পারমিশন নেয়ার প্রক্রিয়াটারে সহজ করতে হবে। এদিকে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। আর ইনভেস্ট করার পরে আমি ইনভেস্টমেন্টটা ফিরিয়ে নেয়ার জন্য যে আইনগুলা আছে তা প্রবাসীদের কাছে খুব সহজ রাখতে হবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বড় অংশই খরচ হচ্ছে বাড়িঘর নির্মাণ, জমি কেনাসহ অনুৎপাদনশীল খাতে। অথচ এই অর্থ- শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ হলে তৈরি হতো নতুন কর্মসংস্থান। ব্যাংকে থাকা প্রবাসী আয়ের বড় অংশও উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে অলস অর্থের পরিমাণ।
আরও পড়ুন
শাবিপ্রবি ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী বলেন, ‘যে পরিমাণ আমাদের টাকা আসছে সিলেট অঞ্চলের ব্যাংকগুলোতে, এর থেকে আমরা মাত্র ২২ থেকে ২৫ শতাংশ ইউটিলাইজ করতে পারছি। যা কিনা ঢাকা অঞ্চলে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ৯০ পার্সেন্ট তারা ইউটিলাইজ করছে।এর মধ্যে একটা বড় কারণ হচ্ছে যে এখানকার উদ্যোক্তাগণের ভেতরে অথবা যুবকদের ভেতরে ঝুঁকি গ্রহণের অনিচ্ছা।’
শাবিপ্রবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ সায়েম বলেন, ‘মাইন্ডসেট কিন্তু ইনভেস্টমেন্টের উপর যে, এ মাইন্ডসেট থেকে একটু ডিফারেন্টলি চলে গেছে। উনাদেরকে এই জায়গায় নিয়ে আসা গেলে আমরাই বেনিফিট হবো। আর এই অ্যাডভান্টেজ, আমাদের ন্যাশনাল বলেন বা রিজিয়নাল ডেভেলপমেন্টের ইস্যুগুলা নিয়ে আসলে তখনই আসলে উনারা উদ্বুদ্ধ হবেন।’
সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে নীতিগত পরিবর্তন ও জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে প্রবাসী অর্থকে উৎপাদনশীল খাতে আনার চেষ্টা চলছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেকগুলো প্রসিডিওরগুলোতে অ্যাপ্লাই করতে করতে অনেক দিন চলে যায়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এই দায়িত্ব নিব। আপনারা ইনভেস্ট করেন, প্রশাসনিক সবকিছু দায়-দায়িত্ব আমরা প্রসেস করে দেব ইনশাআল্লাহ। আমাদের সরকার, বর্তমান সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সিলেটের সবচেয়ে বড় শক্তি এর প্রবাসীরা। তাদের পাঠানো অর্থ যদি পরিকল্পিতভাবে শিল্প ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে বদলে যেতে পারে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র।





