১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে ২৮ দশমিক ২৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণির লক্ষ্মীপুর পৌরসভা। এখানে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বাস। অপরিকল্পিত বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ। এর ফলশ্রুতিতে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তূপ ও ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা পলিথিন, প্লাস্টিক, বাসাবাড়ির ময়লা ও জলাবদ্ধ নোংরা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এসব স্থান হয়ে উঠে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগবাহী মশার প্রজননক্ষেত্র। যেখানে মশার লার্ভা জন্ম নিয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, সরকারি হিসাবে জেলায় গত সাড়ে ৩ বছরে ৮ হাজার ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে এ বছর জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৬ মাসে ৪৩ জনের ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। তবে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছে সহস্রাধিক রোগী। জেলার ৫টি উপজেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে অর্ধশতাধিক রোগী ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা জানান, শহরে কিছু জায়গায় উন্নয়ন কাজ করা হতে পারে দুই এক জায়গায়। তবে গ্রাম অঞ্চলে অনেক সমস্যা এখনো রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। মশক নিধনের জন্য কোনো কাজ করা হয় না।
পৌরবাসীর অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রায় ৩৪ কিলোমিটার ড্রেনের কোনটিই পরিকল্পিত নয়। এই ড্রেনের পচা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকেই মশার বিস্তার বেশি ঘটছে। পৌরসভা থেকে মশা নিধনে ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম গত এক বছরে কোথাও নজরে আসেনি।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেন, ‘সারা দেশের মতো লক্ষ্মীপুরেও কিন্তু ডেঙ্গুর এখন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা জানি যে সাধারণত এই জুন থেকেই হয়তো আগস্ট মাস বা একদম আগামী তিন মাস কিন্তু এ ডেঙ্গুর আক্রমণটা বেশি থাকে এবং দেখা যায়।’
পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মশক নিধনের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান পৌর প্রশাসক।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা বলেন, ‘আমাদের চলমান যে ডেঙ্গু মৌসুম যেটা, আমাদের ডেঙ্গু মোকাবেলার জন্য পৌরসভা থেকে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে যেখানে ডেঙ্গু মশার আপনার উৎপত্তিস্থল আছে সেগুলো আমরা চিহ্নিত করে এগুলো ধ্বংসের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’




