কনেপক্ষ বলছে— ‘আস্ত খাসি’ না দেয়ায় ভেঙেছে বিয়ে; বরপক্ষের দাবি ‘ইস্যু কাবিনের টাকা’

বর মো. জুনায়েদ
বর মো. জুনায়েদ | ছবি: এখন টিভি
0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়েতে বরের সাজানো খাবারের থালায় ‘আস্ত খাসি’ না দেয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে বরপক্ষের দাবি— খাসি নয়, পূর্বনির্ধারিত কাবিনের টাকার চেয়ে ১০ গুণ বেশি দাবি করায় বিয়ে না করেই ফিরে আসতে হয়েছে বরকে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল (সোমবার, ১৭ আগস্ট) আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতলা গ্রামে। বর মো. জুনায়েদ কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তোলাতলা গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ের সঙ্গে জুনায়েদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল সোমবার। নির্ধারিত সময়ে বর ও বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে পৌঁছান। বরযাত্রীদের খাওয়ানোর পর বরের জন্য আলাদা করে সাজানো খাবারের থালা দেয়া হয়।

এসময় ওই থালায় ‘আস্ত খাসি’ না থাকায় বর আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিয়ে না করেই বর ও তার স্বজনরা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান। পরে ‘আস্ত খাসি না দেয়ায় বিয়ে ভেঙে গেল’—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়।

তবে বর জুনায়েদের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ খাসি নয়; বরং পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকা দাবি করা।

নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ দাবি করেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত টাকার চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তিনি ও তার পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়া হয়।

জুনায়েদের আরও দাবি, রাতে কনেপক্ষ থেকে যোগাযোগ করে বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য বলা হলেও তিনি রাজি হননি। এসময় তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বরপক্ষের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনের বাবা শফিক মিয়া। তার দাবি, খাসির বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলার পর আত্মীয়স্বজনসহ সবাই জুনায়েদকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে রাজি হননি। পরে তার আচরণ এবং মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠায় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিয়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক।’ তার ভাষ্য, বর খাবার নিয়ে খারাপ আচরণ করায় মেয়ের বাবা বিয়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা হলেও বিয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বরপক্ষের দাবি কাবিনের অতিরিক্ত টাকা, আর কনেপক্ষের দাবি বরের আচরণ ও খাবার নিয়ে আপত্তি।

এএইচ